স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগর এলাকায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির একমাত্র জীবিকার উৎস অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করায় মানবিক সংকটে পড়েছে একটি পরিবার। বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরসভার কর্মচারীরা ওই দোকানটি সরিয়ে দেন।
জানা গেছে, শহরের বিহারী পয়েন্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি পানের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী জামাল মিয়া। তিনি ময়নার পয়েন্টে ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। দোকানটিই ছিল তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। পাশাপাশি তিনি পৌর প্রতিবন্ধী সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খ্রিস্টান মিশনের সামনের সড়কের ফুটপাত ও ড্রেনের পাশে বর্তমানে আরও অস্থায়ী দোকান বহাল রয়েছে। তবে এসব দোকান অক্ষত থাকলেও কেবল প্রতিবন্ধী জামাল মিয়ার দোকানটিই উচ্ছেদ করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে বিহারী পয়েন্ট এলাকার ব্যবসায়ী হাবিব মিয়া, কল্যাণ দাস, ঋতু দাস, রাজু মিয়া ও মেকানিক আলী হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জামাল মিয়া একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষ। এই ছোট দোকান করেই সে তার পরিবার চালায়। অন্য দোকান রেখে শুধু তার দোকান উচ্ছেদ করা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। উচ্ছেদ করতে হলে সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে করা উচিত, নয়তো তাকে আগের জায়গায় ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হোক।
উচ্ছেদের পর চরম অনিশ্চয়তায় পড়া জামাল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দোকান তুলে দেওয়ার পর থেকে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ছেলে-মেয়েদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারছি না। কী করব বুঝে উঠতে পারছি না। আমি শুধু আমার প্রতি ন্যায়বিচার চাই।
স্থানীয়দের দাবি, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে প্রতিবন্ধী এই মানুষটির জীবিকার ব্যবস্থা করা হোক এবং ভবিষ্যতে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান নীতি অনুসরণ করা হোক।