স্টাফ রিপোর্টার ::
তাহিরপুরের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ শহীদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রী লেক)। মেঘালয় পাহাড় ঘেঁষে বিসিআইসি’র জায়গায় গড়ে ওঠা এই লেককে ঘিরে বছরের প্রায় সব মৌসুমেই দেশের নানা প্রান্ত থেকে সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকদের ঢল নামে। প্রকৃতির অপার লীলাভূমি হওয়ায় অনেকেই একে ডাকেন ‘বাংলার কাশ্মীর’ নামে। কিন্তু এই ঐতিহ্যবাহী লেকের সৌন্দর্য এখন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে। লেকের পশ্চিম পাড়জুড়ে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অবৈধভাবে দোকানকোঠা নির্মাণ করে দখল নেওয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। পূর্বে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত বেশ কিছু লোক এখন স্থায়ী দোকান তুলে লেকের স্বাভাবিক রূপ বিকৃত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, লেকের ঠিক পাড় ঘেঁষে এসব দোকান নির্মাণে নষ্ট হচ্ছে লেকের প্রাকৃতিক দৃশ্যপট। এতে দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ শ্রীহীন হওয়ার পাশাপাশি পর্যটন সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা- এভাবে দখল চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পর্যটকরা এই স্থান এড়িয়ে যেতে পারে।
এক পর্যটক ফারদিন আহমেদ বলেন, লেকের সৌন্দর্য তো এর খোলা পরিবেশেই। দোকানগুলো একটু দূরে সরালে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হবে না, বরং পরিবেশও রক্ষা পাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুমিন মিয়াসহ অনেকে জানান, শহীদ সিরাজ লেক শুধু বিনোদনের স্থান নয় - এটি তাহিরপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার প্রতীক। তারা দ্রুত অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান।
উল্লেখ্য, এর আগে লেক এলাকায় ‘ইত্যাদি’ লেখা একটি তোরণ নির্মাণ করা হলে মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার দাবিতে প্রশাসন তা ভেঙে ফেলে। কিন্তু নতুন করে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর বিষয়ে এতদিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তবে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সুনামগঞ্জ ২৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির পিএসসি জানিয়েছেন, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখা হবে।
তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু বলেন, শহীদ সিরাজ লেক এলাকার দোকানগুলো উঠিয়ে দেয়া হবে আজ-কালের মধ্যেই।