রঙ্গারচরা নদীতে নাব্যতা সংকট

হাজারো শ্রমিকের মানবেতর জীবনযাপন : নদী খননের দাবি

আপলোড সময় : ১০-১২-২০২৫ ১২:২৭:৩১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-১২-২০২৫ ১২:৫৪:৩০ পূর্বাহ্ন
আকরাম উদ্দিন, বাগলী থেকে ফিরে ::
তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বাগলী শুল্ক স্টেশনের একমাত্র পরিবহন ভরসা রঙ্গারচরা নদীতে নাব্যতা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে আশপাশের কয়েকটি উপজেলার হাজারো নৌ-শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাগলী শুল্ক স্টেশনে বিকল্প সড়ক যোগাযোগ না থাকায় নৌপথই ব্যবসায়ীদের একমাত্র ভরসা। বর্ষা মৌসুমে কোনো রকমে বালু-পাথর ও কয়লা পরিবহন করা গেলেও শুষ্ক মৌসুমে ছয় মাস পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েন শ্রমিকরা। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বাগলী রঙ্গারচরা থেকে পাটনাই নদী পর্যন্ত প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার নদী দীর্ঘদিন ধরে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে নৌ-জটের সৃষ্টি হয়। এতে পাথর ও কয়লাবোঝাই নৌকা সপ্তাহের পর সপ্তাহ আটকে থাকায় বিপুল লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ প্রায় দেড় যুগ ধরে পাটনাই নদীতে নৌ-জট চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তারা জানান, নদীটি পরিকল্পিতভাবে খনন করা হলে রাজস্ব বাড়বে, শ্রমিকদের সারা বছরের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং নৌ-জটের স্থায়ী সমাধান মিলবে।

বড়চরা এলাকার নৌ-শ্রমিক নেতা আব্দুল আলীম বলেন, রঙ্গারচরা নদীর তলদেশ সম্পূর্ণ ভরাট। গভীরভাবে খনন করলে সরকার প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে এবং শ্রমিকরা সারা বছর কাজ করতে পারবে।

বাগলী শুল্ক স্টেশনের ব্যবসায়ী ডা. আব্দুস ছুবান, ডা. আমিনুল হক, হাজী আব্দুল আলীমসহ অনেকে বলেন, নদী খননের দাবি বহুবার জানানো হলেও সেটি উপেক্ষিত রয়ে গেছে। শুল্ক স্টেশনের মাধ্যমে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও নদী খননে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। বাগলী শুল্ক স্টেশনের সভাপতি মো. কামাল হোসেন বলেন, পাটলাই নদীর নৌজট নিরসনের একমাত্র সমাধান রঙ্গারচরা-পাটলাই নদী খনন। ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের আওতায় খননের জন্য আমরা একাধিকবার প্রস্তাব পাঠিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহরুখ আলম শান্তনু বলেন, রঙ্গারচরা থেকে পাটলাই নদী পর্যন্ত অচিরেই খনন কাজের ব্যবস্থা করা হবে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, এই খনন কাজের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ’র। তবে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com