স্টাফ রিপোর্টার ::
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের ২৫ বছর বয়সী যুবক জাকির হোসেন। কথা ছিল মাসখানেক পড়ে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মধ্য ইউরোপের দেশ স্লোভেনিয়া যাবেন তিনি। তবে এক রাতের ব্যবধানে প্রবাসের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েগেছে সম্ভাবনাময় এই তরুণের। রাতের আঁধারে অগ্নিকান্ডে ঘরে থাকা নগদ টাকা ও পাসপোর্টসহ পুড়ে গেছে ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র।
গত রবিবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বৈদ্যুতিক শটসার্কিট হতে আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা আশেপাশের কয়েকটি বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় গ্রামবাসী আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে তীব্রতা বেশি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে শান্তিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঘণ্টাব্যাপী অগ্নিকান্ডে ৭টি পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ টাকা, গহনাসহ অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা।
অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত যুবক জাকির হোসেন বলেন, স্লোভেনিয়া যাওয়ার জন্য ট্রেভেলসে ২ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। এক মাসের মধ্য ভিসা আসার কথা। তাই ধারদেনা ও লোন তুলে ঘরে আড়াই লাখ টাকা ও পাসপোর্ট রেখেছিলাম। আগুনে আমার সব শেষ।
আগুনে পুড়ে যাওয়া টাকার বান্ডিল নিয়ে জাকির হোসেনের স্ত্রী লাকী বেগম বলেন, আমরা ৩টা শিশু সন্তান নিয়ে কই যাবো। আলমারিতে টাকা, পাসপোর্ট, দলিল ও স্বর্ণালংকার ছিল, সব পুড়ে শেষ। এখন কিভাবে বাঁচবো।
জাকিরের মতো অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারিয়েছেন গ্রামের আরও ৭টি পরিবার। আগুন কেড়ে নিয়েছে পরিবারগুলোর সুখ। পরনের কাপড় ব্যতীত কিছুই অবশিষ্ট নেই তাদের কাছে। সহায়-সম্বল হারিয়ে মাথাগোঁজার ঠাঁই ও দু’মুঠো আহারের সংস্থানের জন্য দুশ্চিন্তায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
ক্ষতিগ্রস্ত শুকুর আলী বলেন, আমি ঘরের বাইরে ছিলাম। মানুষের চিৎকার শুনে এসে দিকে আগুন আর আগুন। বাচ্চা-কাচ্চারা জান নিয়ে বের হয়ে আসছে। আর কিছুই রইছে না।
আবুল হোসেন বলেন, আমার উগারের সব ধান পুড়েছে। ঘরের ইটের দেয়াল থাকলেও ঘরের কোনো মালামাল রইছে না। টাকা পয়সা, গহনা সব শেষ।
এদিকে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থেকে সহযোগিতার কথা জানিয়ে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুজেল আহমদ বলেন, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে আমিসহ পরিষদের সকল মেম্বাররা ঘটনাস্থলে এসেছেন। পরিষদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে খাদ্যসামগ্রী দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে পরিষদ রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খাদ্যসামগ্রী ও শীতের কম্বল দিয়েছেন। পরবর্তীতে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে।