বিশ্বজিত রায়::
২০২৩ সালে অনগ্রসরমাণ এলাকায় কারিগরি প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে ৫০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টিটিসি প্রকল্পটি অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল। এ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু তাহিরপুরের প্রকল্প বাতিল করে জগন্নাথপুরে স্থানান্তর করা হয়। শান্তিগঞ্জের টিটিসি প্রকল্পটিও আছে দোদুল্যমান অবস্থায়। এ খবরে মানববন্ধনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাহিরপুরের মানুষ।
জানা যায়, তাহিরপুরের প্রধান পেশা কৃষির পাশাপাশি বিদেশমুখী প্রবণতা আছে এখানকার মানুষের। প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের উপজেলা তাহিরপুর শিক্ষা, যোগাযোগ, কর্মসংস্থানসহ প্রায় সবদিক থেকেই পিছিয়ে রয়েছে। একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটা বাধাগ্রস্ত। দুইটি আলিম, দুইটি দাখিল মাদ্রাসার এই উপজেলায় নেই কোন ফাজিল বা কামিল মাদ্রাসা। সবদিক থেকে পিছিয়ে থাকা তাহিরপুরে নির্মিতব্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি আশার আলো ছড়াচ্ছিল। সেটিও অন্যত্র স্থানান্তর করে তাহিরপুরবাসীকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ ও তাহিরপুরে নির্মিতব্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল হয়নি। তবে তাহিরপুরের প্রকল্পটি জগন্নাথপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেটা প্রক্রিয়াধীন, চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ সিদ্ধান্ত একনেকের বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘উপজেলা পর্যায়ে ৫০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ৩ হাজার ৭৫১ কোটি ৮ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা ছিল ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত।
সিলেট বিভাগের দুইটি প্রকল্প গোয়াইনঘাট ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষরিত পত্রে তাহিরপুরের নির্বাচিত জমি অধিগ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা আছে। এছাড়া ২০২৪ সালে ৪ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের পরিবেশ অধিদপ্তরকে ছাড়পত্র প্রদানের জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান।
এর আগে ২০২০ সালের ৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে টিটিসির ভূমি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সে প্রতিবেদনে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সন্নিকটে ১ দশমিক ৫০ একর জমির প্রস্তাব করা হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও অদৃশ্য কারণে তাহিরপুরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, তাহিরপুর এমনিতেই পিছিয়েপড়া উপজেলা। প্রকল্পটি বাতিল হলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা লাগবে। এটি নির্মিত হলে শিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত, অশিক্ষিত জনশক্তিকে কারিগরি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করে দক্ষতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে তাহিরপুর ও তার আশেপাশের উপজেলার বেকারত্ব অনেকটা দূর হবে।
তাহিরপুরের বালুমহাল, শুল্কস্টেশন, পর্যটনসহ নানা জায়গা থেকে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব নিচ্ছে। অথচ তাহিরপুর চরমভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি বাতিল করে তাহিরপুরকে পেছন থেকে আরও পেছনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের পরও আচমকা বাতিলের সিদ্ধান্ত সকলকে হতাশ করেছে। এটি বাতিল হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি সকলকে বেকারত্ব ঘুচিয়ে স্বপ্ন বুননের পথ দেখাচ্ছিল। এই প্রকল্প বাতিলের খবরে হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনপদে চরম হতাশা কাজ করছে। এটি অন্যত্র স্থাপন করা হলে তাহিরপুরের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে তা ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত রয়েছে।
তাহিরপুর টিটিসি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল ও সদস্য সচিব সোহেল আলম বলেন, আমাদের শিক্ষার হার ৩১ দশমিক ২ শতাংশ। ভালো প্রশিক্ষণ কিংবা কাজের সুযোগ না থাকায় এখানকার মানুষ সপরিবারে ঢাকা নতুবা ভোলাগঞ্জে চলে যায়। প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ কর্মীর সৃষ্টি না হওয়ায় বেকারত্ব বাড়ছে। এ প্রকল্প বাতিল করায় তাহিরপুরবাসী হতাশ।
আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সারোয়ার বলেন, তাহিরপুরে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষায়িত কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে টিটিসি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এটি স্থাপিত হলে হাওরাঞ্চলের মানুষ সহজেই এর সুবিধা পাবে। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর প্রকল্পটি নির্মাণাধীন পর্যায়ে ছিল। এখন প্রভাব খাটিয়ে হুট করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়াটা চরম বৈষম্যমূলক।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, জগন্নাথপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাজ জমি অধিগ্রহণের পর্যায়ে আছে। এটি প্রথম পর্যায়ে আনা হয়েছে। তাহিরপুরের প্রকল্পটি প্রথম পর্যায়ে ছিল এখন আছে দ্বিতীয় পর্যায়ে।
প্রকল্প পরিচালক (৫০ টিটিসি) মো. আখতারুজ্জামান বলেন, তাহিরপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প জগন্নাথপুরে স্থানান্তরের বিষয়টি প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে একনেকের প্ল্যানিং কমিশন।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটা চিঠি লিখব। যেখান থেকে তাহিরপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি স্থানান্তরের কথা উঠেছে আমরা চিঠিটা সেখানে পাঠাবো। প্রকল্পটি যেন স্থানান্তর না হয়, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করবো।
২০২৩ সালে অনগ্রসরমাণ এলাকায় কারিগরি প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে ৫০টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টিটিসি প্রকল্পটি অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল। এ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু তাহিরপুরের প্রকল্প বাতিল করে জগন্নাথপুরে স্থানান্তর করা হয়। শান্তিগঞ্জের টিটিসি প্রকল্পটিও আছে দোদুল্যমান অবস্থায়। এ খবরে মানববন্ধনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাহিরপুরের মানুষ।
জানা যায়, তাহিরপুরের প্রধান পেশা কৃষির পাশাপাশি বিদেশমুখী প্রবণতা আছে এখানকার মানুষের। প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষের উপজেলা তাহিরপুর শিক্ষা, যোগাযোগ, কর্মসংস্থানসহ প্রায় সবদিক থেকেই পিছিয়ে রয়েছে। একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থাকলেও শিক্ষক সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটা বাধাগ্রস্ত। দুইটি আলিম, দুইটি দাখিল মাদ্রাসার এই উপজেলায় নেই কোন ফাজিল বা কামিল মাদ্রাসা। সবদিক থেকে পিছিয়ে থাকা তাহিরপুরে নির্মিতব্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি আশার আলো ছড়াচ্ছিল। সেটিও অন্যত্র স্থানান্তর করে তাহিরপুরবাসীকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ ও তাহিরপুরে নির্মিতব্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল হয়নি। তবে তাহিরপুরের প্রকল্পটি জগন্নাথপুরে স্থানান্তর করা হয়েছে। সেটা প্রক্রিয়াধীন, চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ সিদ্ধান্ত একনেকের বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘উপজেলা পর্যায়ে ৫০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্প অনুমোদিত হয়। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ৩ হাজার ৭৫১ কোটি ৮ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা ছিল ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত।
সিলেট বিভাগের দুইটি প্রকল্প গোয়াইনঘাট ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুর অগ্রাধিকার তালিকায় ছিল। চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প পরিচালকের স্বাক্ষরিত পত্রে তাহিরপুরের নির্বাচিত জমি অধিগ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা আছে। এছাড়া ২০২৪ সালে ৪ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের পরিবেশ অধিদপ্তরকে ছাড়পত্র প্রদানের জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. আখতারুজ্জামান।
এর আগে ২০২০ সালের ৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে টিটিসির ভূমি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সে প্রতিবেদনে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সন্নিকটে ১ দশমিক ৫০ একর জমির প্রস্তাব করা হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও অদৃশ্য কারণে তাহিরপুরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, তাহিরপুর এমনিতেই পিছিয়েপড়া উপজেলা। প্রকল্পটি বাতিল হলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা লাগবে। এটি নির্মিত হলে শিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত, অশিক্ষিত জনশক্তিকে কারিগরি প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করে দক্ষতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে তাহিরপুর ও তার আশেপাশের উপজেলার বেকারত্ব অনেকটা দূর হবে।
তাহিরপুরের বালুমহাল, শুল্কস্টেশন, পর্যটনসহ নানা জায়গা থেকে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব নিচ্ছে। অথচ তাহিরপুর চরমভাবে উন্নয়ন বঞ্চিত। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি বাতিল করে তাহিরপুরকে পেছন থেকে আরও পেছনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের পরও আচমকা বাতিলের সিদ্ধান্ত সকলকে হতাশ করেছে। এটি বাতিল হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি সকলকে বেকারত্ব ঘুচিয়ে স্বপ্ন বুননের পথ দেখাচ্ছিল। এই প্রকল্প বাতিলের খবরে হাওরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনপদে চরম হতাশা কাজ করছে। এটি অন্যত্র স্থাপন করা হলে তাহিরপুরের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে তা ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত রয়েছে।
তাহিরপুর টিটিসি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল ও সদস্য সচিব সোহেল আলম বলেন, আমাদের শিক্ষার হার ৩১ দশমিক ২ শতাংশ। ভালো প্রশিক্ষণ কিংবা কাজের সুযোগ না থাকায় এখানকার মানুষ সপরিবারে ঢাকা নতুবা ভোলাগঞ্জে চলে যায়। প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ কর্মীর সৃষ্টি না হওয়ায় বেকারত্ব বাড়ছে। এ প্রকল্প বাতিল করায় তাহিরপুরবাসী হতাশ।
আনোয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সারোয়ার বলেন, তাহিরপুরে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষায়িত কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে টিটিসি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। এটি স্থাপিত হলে হাওরাঞ্চলের মানুষ সহজেই এর সুবিধা পাবে। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর প্রকল্পটি নির্মাণাধীন পর্যায়ে ছিল। এখন প্রভাব খাটিয়ে হুট করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়াটা চরম বৈষম্যমূলক।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, জগন্নাথপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাজ জমি অধিগ্রহণের পর্যায়ে আছে। এটি প্রথম পর্যায়ে আনা হয়েছে। তাহিরপুরের প্রকল্পটি প্রথম পর্যায়ে ছিল এখন আছে দ্বিতীয় পর্যায়ে।
প্রকল্প পরিচালক (৫০ টিটিসি) মো. আখতারুজ্জামান বলেন, তাহিরপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প জগন্নাথপুরে স্থানান্তরের বিষয়টি প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে একনেকের প্ল্যানিং কমিশন।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটা চিঠি লিখব। যেখান থেকে তাহিরপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি স্থানান্তরের কথা উঠেছে আমরা চিঠিটা সেখানে পাঠাবো। প্রকল্পটি যেন স্থানান্তর না হয়, সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করবো।