শহরে প্রতারক চক্র সক্রিয়

আপলোড সময় : ০৩-১২-২০২৫ ১২:৫১:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-১২-২০২৫ ১২:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন
শহীদনূর আহমেদ::
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডাক্তার দেখাতে সুনামগঞ্জ শহরে মেয়ের বাড়িতে আসছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারী রোজিনা বেগম। শান্তিগঞ্জের কাঠালিয়া গ্রাম থেকে সুনামগঞ্জ শহরে পৌঁছেই ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকা থেকে মিষ্টি কিনেন তিনি। পরে মেয়ের বাসা হাসননগরের কলেজ রোড এলাকায় যেতে অটোরিকশায় উঠেন। অটোরিকশার এক পাশে বসা দুই কিশোর রোজিনা বেগমের সাথে সখ্যতা গড়তে থাকেন। একপর্যায়ে নিচে ফেলে রাখা সোনালী রঙের টুকরো হাতে নিতে রোজিনা বেগমকে অনুরোধ জানায় তারা। রোজিনা বেগম টুকরোটি হাতে নিয়েই চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করেন। একপর্যায়ে চিন্তাশন্তি লোপ পায় তার। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অটোরিকশায় থাকা দুই কিশোরের কথা মতো তার গলা থাকায় স্বর্ণের চেইন, কানের দোল, ব্যাগের টাকার বের করে দেন তিনি। এভাবে সব লুটে নিয়ে রোজিনা বেগমকে হাসপাতাল এলাকায় নামিয়ে দিয়ে চক্রের সদস্যরা। অস্বাভাবিক অবস্থায় তিনি মেয়ের বাসায় পৌঁছেন রোজিনা বেগম। বিষয়টি জানার পর রোজিনা বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা।

গত ২৭ নভেম্বর (বুধবার) এভাবে নকল স্বর্ণের টুকরোর মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ পেতে ওই নারীর কাছ থেকে সর্বস্ব লুটে নেয় চক্রটি। ভুক্তভোগী নারীর নাতি মো. সৈদুর রহমান ও ছেলে মো. রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান, প্রতারক চক্রের এই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন রোজিনা বেগম। ঘটনার প্রতিকার পেতে শীঘ্রই আইনের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে পরিবারটি। সুনামগঞ্জ জেলা শহরসহ উপজেলা শহর ও হাটবাজারে এমন প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে সম্প্রতি একাধিক ব্যক্তি প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শহরের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও যানবাহনে নতুন প্রতারণার মাধ্যমে লুট করা হচ্ছে টাকা-পয়সাসহ গহনা। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, চক্রের প্রধান টার্গেট মধ্য বয়স্করা। কারণ তাদের সাথে সহজে সখ্যতা গড়তে পারে প্রতারক চক্র এবং এরকম কিছু হলেও অনেকে তা চেপে যান কিংবা মামলা করেন না।
তাছাড়া গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল লোকদের টার্গেট করে থাকে চক্রটি। সূত্র বলছে, এই অপরাধে সাথে জড়িয়ে পড়ছে কিছু উঠতি বয়সী যুবক। যাদের বয়স ১৫-৩০ বছরের মধ্যে। তারা জনবহুল স্থানে অবস্থান করে এবং যানবাহনে ফাঁদ পেতে রাখে। চক্রটি টাকা কিংবা ধাতব দ্রব্যের মাধ্যমে টার্গেট ব্যক্তিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তার কাছ থেকে লুটে নেয় মূল্যবান জিনিস। এছাড়াও জেলাব্যাপী এই চক্রের নারী সদস্য রয়েছে বলে জানাযায়। যারা গহনার মাধ্যমে বাসা বাড়িতে থাকা নারীদের টার্গেট করে থাকে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বেড়িগাঁও গ্রামের রোকসানা বেগম জানান, বেশ কিছুদিন আগে সিলেটে যাওয়ার পথে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আমার মাকে কিছু একটা দেখিয়ে তার গলার হার ও হাতের আংটি খুলে নিয়ে গিয়েছিল প্রতারক চক্র। আমার মা বয়স্ক মানুষ। আমরা এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করিনি। শান্তিগঞ্জ উপজেলার বীরগাঁও গ্রামের দুলা মিয়া জানান, মাসখানেক আগে তার মাদ্রাসা পড়ুয়া ১৪ বছরের ছেলে হাসান বাড়ি থেকে সুনামগঞ্জ শহরে আসার পথে পাগলা বাজার এলাকায় অবচেতন করে দিরাই এলাকায় নিয়ে যায়। পথে তার কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায় প্রতারক চক্র। পরে খবর পেয়ে আমরা তাকে উদ্ধার করি।
সুনামগঞ্জ শহরের বাগান বাড়ি এলাকার বাসিন্দা বাবলু মিয়া বলেন, একজন মধ্যবয়স্ক মহিলা আমাদের বাসায় এসে গহনা বিক্রির কথা বলে বাসার মহিলাদের ফাঁদে ফেলে ৭০ হাজার টাকা প্রতারণা করে নিয়ে গেছে। আমরা মানসম্মানের ভয়ে পুলিশে যাইনি। এদিকে অভিনব এইসব প্রতারণার ঘটনায় উদ্বিগ্ন শহরের বাসিন্দারা। প্রতারক চক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি তাদের।
এ ব্যাপােের সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম বলেন, এটি আমাদের কাছে নতুন। যেহেতু অভিযোগ আসছে বিষয়টি অধিক গুরুত্ব নিয়ে দেখা হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com