স্টাফ রিপোর্টার ::
সারাদেশের ন্যায় চার দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন সুনামগঞ্জের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির (বাসমাশিস) ব্যানারে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির কারণে জেলার সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া শিক্ষকদের এই কর্মসূচির ফলে সকালে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা না দিয়েই হতাশ হয়ে বাসায় ফিরে গেছে। এতে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করে এমন কর্মসূচি মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করি।
শিক্ষার্থীরাও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেছে, পরীক্ষা না হলে তাদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।
সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ.খ.ম. ফারুক আহমদ বলেন, সারাদেশের ন্যায় সুনামগঞ্জেও আমরা কর্মবিরতি পালন করছি। এ কারণে চলমান বার্ষিক পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির (বাসমাশিস) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ স¤পাদক ও সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ৪টি দাবিতে আমরা কর্মবিরতি পালন করেছি। আশা করছি সরকার আমাদের ন্যায্য দাবি শীঘ্রই মেনে নিবেন। আমাদের দাবি আদায় হলে আমরা আমাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করবো।
কর্মসূচি এবং পরীক্ষা স্থগিতের ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থায় দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক মহল। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মাধ্যমিক শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো: ১. সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ। ২. বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত কার্যকর করা। ৩. সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি। ৪. ২০১৫ সালের আগের মতো ২-৩টি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন সুবিধা পুনর্বহাল করে গেজেট প্রকাশ।