তানভীর আহমেদ ::
সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ৪২টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের লক্ষ্যে ১ হাজার কিলোমিটার বাঁধের জরিপ করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এরমধ্যে জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় সীমিত আকারে জরিপের কাজ শুরু করেছে পাউবো।
তবে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরিপের কাজের শুরুতেই বিলম্ব দেখা দিয়েছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই জরিপ কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, জেলার অধিকাংশ উপজেলায় এখনও তা শুরু হয়নি। জরিপ কাজে বিলম্বের কারণে বাঁধের স্কিম প্রণয়ন (প্রকল্প প্রস্তাব) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনেও বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু ও শেষ করা নিয়ে হাওরপাড়ের কৃষক এবং সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের জন্য ৪৫ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১ হাজার কিলোমিটার বাঁধ জরিপ করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরই লক্ষ্যে ৩৮ জন সার্ভেয়ার ও ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট নিয়োগ করেছে পাউবো। একইসাথে জরিপ করার জন্য ২৮টি টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। পাউবো সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে তাহিরপুর উপজেলায় ২টি ও ধর্মপাশা উপজেলায় ১টি টিম জরিপের কাজ করছে। সুনামগঞ্জ সদর, জামালগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও মধ্যনগর উপজেলায় চলতি সপ্তাহে কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা যায়, বাঁধ জরিপের মাধ্যমে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ চিহ্নিত করা, বাঁধের আকার-আকৃতি ও উচ্চতা পরিমাপ করা হয়। এই জরিপ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়। হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, সার্ভের কাজ বিলম্বে শুরু হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াই পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিপের কাজ শেষ করে দ্রুত প্রকল্প প্রণয়ন, পিআইসি গঠন এবং বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য পাউবোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
২০১৭ সালের প্রলয়ংকরী বন্যার পর ‘কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা)’ নীতিমালা সংশোধন করে ‘কাবিটা নীতিমালা-২০১৭’ প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে নীতিমালা সংশোধন করে ‘সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩’ প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালা অনুযায়ী ২১ অক্টোবরের মধ্যে জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন সম্পন্ন করে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। একই সাথে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পিআইসি-কে বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে বলা হয়েছে। দিকে, ‘সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩’ - অনুযায়ী ২১ অক্টোবরের মধ্যে জেলা ও উপজেলায় কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকল্পে বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত জেলার কোনো উপজেলায় কমিটি গঠনের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, গত ৫ অক্টোবর ২০ সদস্যবিশিষ্ট কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকল্পে জেলা পর্যায়ে বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে জেলা প্রশাসক আহ্বায়ক ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড পওর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই বাঁধের জরিপ ও নির্মাণ কাজ দেরিতে শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এগুলো নতুন কিছু না। আমরা চাইবো পাউবো যেন নিয়ম অনুসরণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধের জরিপ কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পিআইসি কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেন।
তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের কৃষক পারভেজ মিয়া বলেন, ২০১৭ সালের কথা মনে হলে এখনও ভয় লাগে। সময়মত সব প্রক্রিয়া শেষ না করতে পারলে শেষ সময়ে তাড়াহুড়ো করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তখন বাঁধের গুণগত মান নিয়ে শঙ্কা থাকে। আমরা চাই যথা সময়ে বাঁধের জরিপ কাজ শেষ করে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হোক।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, বাঁধের জরিপ থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজেই সময়মতো শুরু করা না গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। আর সময়মত বাঁধের কাজ শুরু এবং শেষ করতে না পারলে ফসলের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মো. মামুন হাওলাদার বলেন, বাঁধের জরিপের কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন হাওরে ২৪টি টিম কাজ করছে। শীঘ্রই সব উপজেলায় জরিপের কাজ শুরু হবে।
সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ৪২টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের লক্ষ্যে ১ হাজার কিলোমিটার বাঁধের জরিপ করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এরমধ্যে জেলার তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় সীমিত আকারে জরিপের কাজ শুরু করেছে পাউবো।
তবে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জরিপের কাজের শুরুতেই বিলম্ব দেখা দিয়েছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই জরিপ কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, জেলার অধিকাংশ উপজেলায় এখনও তা শুরু হয়নি। জরিপ কাজে বিলম্বের কারণে বাঁধের স্কিম প্রণয়ন (প্রকল্প প্রস্তাব) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনেও বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু ও শেষ করা নিয়ে হাওরপাড়ের কৃষক এবং সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামতের জন্য ৪৫ কোটি টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১ হাজার কিলোমিটার বাঁধ জরিপ করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরই লক্ষ্যে ৩৮ জন সার্ভেয়ার ও ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট নিয়োগ করেছে পাউবো। একইসাথে জরিপ করার জন্য ২৮টি টিম প্রস্তুত করা হয়েছে। পাউবো সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে তাহিরপুর উপজেলায় ২টি ও ধর্মপাশা উপজেলায় ১টি টিম জরিপের কাজ করছে। সুনামগঞ্জ সদর, জামালগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা ও মধ্যনগর উপজেলায় চলতি সপ্তাহে কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা যায়, বাঁধ জরিপের মাধ্যমে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ চিহ্নিত করা, বাঁধের আকার-আকৃতি ও উচ্চতা পরিমাপ করা হয়। এই জরিপ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের জন্য প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়। হাওরের কৃষকরা জানিয়েছেন, সার্ভের কাজ বিলম্বে শুরু হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াই পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিপের কাজ শেষ করে দ্রুত প্রকল্প প্রণয়ন, পিআইসি গঠন এবং বাঁধের নির্মাণকাজ শুরু করার জন্য পাউবোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
২০১৭ সালের প্রলয়ংকরী বন্যার পর ‘কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা)’ নীতিমালা সংশোধন করে ‘কাবিটা নীতিমালা-২০১৭’ প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে নীতিমালা সংশোধন করে ‘সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩’ প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালা অনুযায়ী ২১ অক্টোবরের মধ্যে জেলা ও উপজেলা কমিটি গঠন সম্পন্ন করে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। একই সাথে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে পিআইসি-কে বাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করতে বলা হয়েছে। দিকে, ‘সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩’ - অনুযায়ী ২১ অক্টোবরের মধ্যে জেলা ও উপজেলায় কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকল্পে বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠন করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত জেলার কোনো উপজেলায় কমিটি গঠনের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, গত ৫ অক্টোবর ২০ সদস্যবিশিষ্ট কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকল্পে জেলা পর্যায়ে বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে জেলা প্রশাসক আহ্বায়ক ও জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড পওর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই বাঁধের জরিপ ও নির্মাণ কাজ দেরিতে শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এগুলো নতুন কিছু না। আমরা চাইবো পাউবো যেন নিয়ম অনুসরণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধের জরিপ কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পিআইসি কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেন।
তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের কৃষক পারভেজ মিয়া বলেন, ২০১৭ সালের কথা মনে হলে এখনও ভয় লাগে। সময়মত সব প্রক্রিয়া শেষ না করতে পারলে শেষ সময়ে তাড়াহুড়ো করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তখন বাঁধের গুণগত মান নিয়ে শঙ্কা থাকে। আমরা চাই যথা সময়ে বাঁধের জরিপ কাজ শেষ করে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হোক।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, বাঁধের জরিপ থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজেই সময়মতো শুরু করা না গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। আর সময়মত বাঁধের কাজ শুরু এবং শেষ করতে না পারলে ফসলের সুরক্ষা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মো. মামুন হাওলাদার বলেন, বাঁধের জরিপের কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন হাওরে ২৪টি টিম কাজ করছে। শীঘ্রই সব উপজেলায় জরিপের কাজ শুরু হবে।