সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা নদীর উপর ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সেতু নির্মাণ এখন আর কেবল স্থানীয় মানুষের “স্বপ্ন” নয় - এটি তাদের ন্যায্য অধিকার ও সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এই সেতুর আশা দেখিয়ে নির্বাচনী সময়গুলো পার করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেতুটি আজও অনির্মিত। একটি সেতুর অভাবে জনভোগান্তির মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
গত শনিবার সুরমা ইউনিয়নের বেরীগাঁও স্কুল মাঠে এক সমাবেশে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আবিদুল হক আবিদ বলেছেন- সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে এই সেতুটি নির্মাণ করা হবে তাঁর প্রথম কাজ। বক্তব্যটি রাজনীতির পরিচিত লাইন আপের মতো শোনালেও, তাতে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি আছে। কিন্তু আমাদের মূল প্রশ্ন হলো- প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারপত্রে রাখলেই কি হবে? এই ব্রিজটি “প্রথম কাজ” হিসেবে চিহ্নিত করার মানে হলো- এর জন্য সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ থাকা লাগবে। অর্থাৎ প্রশাসনিক কর্মপরিকল্পনার ভাষায় সুনির্দিষ্টতার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
আজকাল প্রতিশ্রুতির রাজনীতি মানুষ বিশ্বাস করে না। জনগণ এখন বাস্তব কাজ দেখতে চায়।
আমরা চাই, ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট ব্রিজ হোক “ইলেকশনের বুলেট পয়েন্ট” নয়, হোক পলিসি-অ্যাকশন টেবিলের বাস্তব প্রজেক্ট। যেই আসুক-যেই জিতুক, যে দলেরই হোক, সেতুটি নির্মাণ হোক দ্রুত, টেকসই, দায়িত্বশীলভাবে। এবং শেষ কথা- সুরমার উত্তরপাড়ের মানুষ আর প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না, তারা সেতু বাস্তবায়ন চায়।