‘ধূমপায়ীরা শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারবেন না’ - এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ

আপলোড সময় : ০৮-১১-২০২৫ ০৯:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-১১-২০২৫ ০৯:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চলতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যোগ করা হয়েছে- ধূমপান বা যে কোনো মাদক গ্রহণের অভ্যাস থাকলে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ ধূমপায়ী বা মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা এই পদে আবেদন করতে পারবেন না। এটা নিঃসন্দেহে দেশের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এক নতুন উদাহরণ এবং সিদ্ধান্তটি নিয়ে এসেছে মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি নতুন বার্তা- শিক্ষক হতে হলে প্রথমে নিজেই হতে হবে সুশৃঙ্খল ও স্বাস্থ্য সচেতন। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলি শিক্ষক শুধু পাঠদানকারী নন, তিনি ছাত্রছাত্রীদের রোল মডেল। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে - যেখানে একটি শিশুর শৈশবের প্রথম ছাপ গড়ে ওঠে, যেখানে শিক্ষকের আচরণ ও জীবনযাপন শিশুর কাছে এক ধরনের অবলম্বন হয়ে দাঁড়ায় সেখানে শিক্ষক যেন নিজেই নেশাহীন ও পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করেন - এটা শুধু প্রত্যাশা নয়, প্রয়োজন। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, ধূমপান ব্যক্তির ব্যক্তিগত অভ্যাস, রাষ্ট্র কি তা নিয়ন্ত্রণ করবে? উত্তরের জায়গাটি আছে দৃষ্টিভঙ্গিতে। রাষ্ট্র সবার ধূমপান নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে না- রাষ্ট্র বলছে, শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নিতে চাইলে আপনাকে সেই মানদ- মেনে চলতে হবে যেটিকে শিশুরা অনুসরণ করতে পারে। অথচ যে বাস্তবতা আছে তাও আমাদের বুঝতে হবে- দেশে আজও অসংখ্য শিক্ষক আছেন যারা ধূমপায়ী। আমরা মনে করি, নতুন শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা আদর্শের সূচনা। এই সিদ্ধান্তকে তাই শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নৈতিক সংস্কৃতি গড়ার সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। নতুন যুগের শিক্ষায় এখন শুধু পাঠ্যবই পড়ানোর মধ্যে শিক্ষকতার সীমা নেই। শিক্ষক হলেন ভ্যালু-এডুকেশনের প্রথম বাহক। স্কুলের ক্লাসরুমে শিশুকে ধূমপানের ক্ষতি ব্যাখ্যা করলে, একদিকে দাঁড়িয়ে রঙিন ধোঁয়া টেনে সে বক্তব্য নৈতিক ও বাস্তব দুই দিক থেকেই ভেঙে পড়ে। সরকার তাই সুযোগের শিল্পে একটি বার্তা দিয়েছে- শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন থাকলে আগে নিজেকে বদলাও। এ সিদ্ধান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শুধু যোগ্যতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না - এটি আচরণের মানদ-ও নির্ধারণ করছে। এ কারণেই এই নীতিকে আমরা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য-শিক্ষা-সম্মান মডেল এর সোপান হিসেবে দেখছি। প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে ধূমপায়ীদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের চোখে কঠোর লাগলেও, তা শিশুর ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে এই কঠোরতা নৈতিকভাবে সঠিক। রাজনীতির বুলি নয়, শিশুর জন্য সৎ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়াসে এমন নীতিকে সমাজিক সমর্থন দেওয়া উচিত। শিক্ষকদের মাধ্যমে যদি সমাজে নেশামুক্ত সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলেই এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত সফলতা আসবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com