শামস শামীম::
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের এডিপি প্রকল্পের কাজ নামকাওয়াস্তে করে বরাদ্দ নয়ছয় করা হয়েছে।
অর্থ বছর চলে যাওয়ার পর নতুন অর্থ বছরের জন্য নতুন প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হলেও বহু পুরনো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। যে কাজ করা হয়েছে তাও যতসামান্য। বরাদ্দের বেশিরভাগ অর্থই একটি সিন্ডিকেট লোপাট করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প ঘুরে অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র লক্ষ করা গেছে। সচেতন মহলের অভিযোগ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা প্রকল্পে যেভাবে বরাদ্দ লোপাট করা হয়েছে সেই ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান। জেলা পরিষদের ভিতরের একটি চক্র দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করেন তারা।
পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে এডিপির ১৩১টি প্রকল্পে ৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের জুন মাসে অর্থ বছর শেষ হয়ে গেলেও অনেক প্রকল্পের কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে। কিছু প্রকল্পে বিপুল বরাদ্দ দিয়ে নামকাওয়াস্তে কাজ করে লোপাট করা হয়েছে বেশিরভাগ অর্থ।
জেলা শহরে জাতীয় মহিলা সংস্থার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য পিআইসির মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন সেখানে সীমানা প্রাচীর পাওয়া যায়নি। একই অফিসে পিআইসি’র মাধ্যমে একটি প্রজেক্টর কেনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লক্ষ টাকা। ‘ভিভিটেক ডিএলপি ডিএক্স ৩৩১ মডেলে’র প্রজেক্টরের বাজারমূল্য মাত্র ৬৪ হাজার টাকা। এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্প দিয়ে বরাদ্দ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জেলা শহরের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের অভিভাবকদের জন্য শেড নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ লক্ষ টাকা। তিন ইঞ্চি গাঁথুনির হাফ দেয়াল প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি শেড বানানো হয়েছে যা সবসময় বন্ধ থাকে। অভিভাবকরা সেখানে বসেন না। এটা নির্মাণে বড় জোর ২-৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাণকাজে জড়িত সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে প্রত্যয় স্কুলের অভিভাবক শেড নির্মাণে ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নয়ছয় করা হয়েছে।
সুরমা ভ্যালি ডিসি পার্কেও ২০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই বরাদ্দেও নামকাওয়াস্তে কাজ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ৫ লক্ষ টাকা এবং পাঠাগার ও পাঠ উদ্যান স্থাপনের নামে আরো ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একাংশের কিছু অংশের সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা হলেও ভিতরে সংস্কারকাজ হয়েছে নামমাত্র। পাঠ উদ্যান ও পাঠাগার খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিশ্বম্ভরপুর হাওর বিলাসে দর্শনার্থীদের বসার স্থান ও ভাসমান পল্টুন সংস্কারে ৫ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে কোনও কাজ করতে দেখেননি এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে আগের অবকাঠামোই দেখা গেছে। তবে প্লাস্টিকের ড্রামে স্টিলের শিট বসিয়ে একটি ছোট পল্টুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া আরো দুটি প্রতিবন্ধী সংগঠনের নামে প্রায় ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই বরাদ্দও নয়ছয় করা হয়েছে।
দিরাই উপজেলার ডরমেটরি ভবনের সামনে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক চিলড্রেন প্লে গ্রাউন্ড স্থাপন প্রকল্পের কাজেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এভাবে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে পিআইসিসহ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা। কোথাও সামান্য ও কোথাও যাচ্ছেতাই কাজ করে বরাদ্দের বেশিরভাগ অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এতে একদিকে কাঙ্খিত ও গুণগত কাজ হয়নি এবং অন্যদিকে সরকারি অর্থও লোপাট এবং অপচয় হয়েছে বলে মনে করেন সুধীজন।
সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মোরশেদ আলম বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলেও বরাদ্দ লোপাট হয়েছে। দুর্নীতির এই ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান আছে। তাই কোথাও কাজ না করে, কোথাও যাচ্ছেতাই কাজ করে সরকারি বরাদ্দ লুটপাট করা হয়েছে। তদন্ত করে যারা জড়িত এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সুনামগঞ্জ ট্রেড ইউনিয়নের সেক্রেটারি সাইফুল আলম সদরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারও তাদের সময়ে মনগড়া প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারি টাকা হরিলুট করেছিল। সেই সরকারের পতন হওয়ার পরও সিন্ডিকেটের কব্জা থেকে বের হতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পছন্দের প্রকল্প গ্রহণ করে নামমাত্র কাজ করে বেশিরভাগ অর্থই লোপাট করা হচ্ছে।
জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ ইমামুল হাসান বলেন, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কোনও অনিয়ম হয়নি। যারা কাজ করেনি তাদের পুরো বিল দেওয়া হয়নি। এই অর্থ জমা রয়েছে।
জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আয়েশা আক্তার বলেন, আমরা আগামী অর্থ বছরের প্রকল্প গ্রহণ করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। পুরনো অর্থ বছরের কাজে অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের এডিপি প্রকল্পের কাজ নামকাওয়াস্তে করে বরাদ্দ নয়ছয় করা হয়েছে।
অর্থ বছর চলে যাওয়ার পর নতুন অর্থ বছরের জন্য নতুন প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হলেও বহু পুরনো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। যে কাজ করা হয়েছে তাও যতসামান্য। বরাদ্দের বেশিরভাগ অর্থই একটি সিন্ডিকেট লোপাট করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে কয়েকটি প্রকল্প ঘুরে অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র লক্ষ করা গেছে। সচেতন মহলের অভিযোগ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নানা প্রকল্পে যেভাবে বরাদ্দ লোপাট করা হয়েছে সেই ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান। জেলা পরিষদের ভিতরের একটি চক্র দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করেন তারা।
পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে এডিপির ১৩১টি প্রকল্পে ৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের জুন মাসে অর্থ বছর শেষ হয়ে গেলেও অনেক প্রকল্পের কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে। কিছু প্রকল্পে বিপুল বরাদ্দ দিয়ে নামকাওয়াস্তে কাজ করে লোপাট করা হয়েছে বেশিরভাগ অর্থ।
জেলা শহরে জাতীয় মহিলা সংস্থার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য পিআইসির মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন সেখানে সীমানা প্রাচীর পাওয়া যায়নি। একই অফিসে পিআইসি’র মাধ্যমে একটি প্রজেক্টর কেনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ লক্ষ টাকা। ‘ভিভিটেক ডিএলপি ডিএক্স ৩৩১ মডেলে’র প্রজেক্টরের বাজারমূল্য মাত্র ৬৪ হাজার টাকা। এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রকল্প দিয়ে বরাদ্দ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জেলা শহরের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের অভিভাবকদের জন্য শেড নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল ১০ লক্ষ টাকা। তিন ইঞ্চি গাঁথুনির হাফ দেয়াল প্রায় ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি শেড বানানো হয়েছে যা সবসময় বন্ধ থাকে। অভিভাবকরা সেখানে বসেন না। এটা নির্মাণে বড় জোর ২-৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাণকাজে জড়িত সংশ্লিষ্টরা। একইভাবে প্রত্যয় স্কুলের অভিভাবক শেড নির্মাণে ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দিয়ে অতিরিক্ত টাকা নয়ছয় করা হয়েছে।
সুরমা ভ্যালি ডিসি পার্কেও ২০ লক্ষ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই বরাদ্দেও নামকাওয়াস্তে কাজ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর সংস্কার ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ৫ লক্ষ টাকা এবং পাঠাগার ও পাঠ উদ্যান স্থাপনের নামে আরো ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একাংশের কিছু অংশের সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা হলেও ভিতরে সংস্কারকাজ হয়েছে নামমাত্র। পাঠ উদ্যান ও পাঠাগার খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিশ্বম্ভরপুর হাওর বিলাসে দর্শনার্থীদের বসার স্থান ও ভাসমান পল্টুন সংস্কারে ৫ লাখ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে কোনও কাজ করতে দেখেননি এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে আগের অবকাঠামোই দেখা গেছে। তবে প্লাস্টিকের ড্রামে স্টিলের শিট বসিয়ে একটি ছোট পল্টুন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া আরো দুটি প্রতিবন্ধী সংগঠনের নামে প্রায় ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেই বরাদ্দও নয়ছয় করা হয়েছে।
দিরাই উপজেলার ডরমেটরি ভবনের সামনে ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক চিলড্রেন প্লে গ্রাউন্ড স্থাপন প্রকল্পের কাজেও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এভাবে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে পিআইসিসহ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্টরা। কোথাও সামান্য ও কোথাও যাচ্ছেতাই কাজ করে বরাদ্দের বেশিরভাগ অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এতে একদিকে কাঙ্খিত ও গুণগত কাজ হয়নি এবং অন্যদিকে সরকারি অর্থও লোপাট এবং অপচয় হয়েছে বলে মনে করেন সুধীজন।
সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মোরশেদ আলম বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলেও বরাদ্দ লোপাট হয়েছে। দুর্নীতির এই ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান আছে। তাই কোথাও কাজ না করে, কোথাও যাচ্ছেতাই কাজ করে সরকারি বরাদ্দ লুটপাট করা হয়েছে। তদন্ত করে যারা জড়িত এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সুনামগঞ্জ ট্রেড ইউনিয়নের সেক্রেটারি সাইফুল আলম সদরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারও তাদের সময়ে মনগড়া প্রকল্প গ্রহণ করে সরকারি টাকা হরিলুট করেছিল। সেই সরকারের পতন হওয়ার পরও সিন্ডিকেটের কব্জা থেকে বের হতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পছন্দের প্রকল্প গ্রহণ করে নামমাত্র কাজ করে বেশিরভাগ অর্থই লোপাট করা হচ্ছে।
জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ ইমামুল হাসান বলেন, প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কোনও অনিয়ম হয়নি। যারা কাজ করেনি তাদের পুরো বিল দেওয়া হয়নি। এই অর্থ জমা রয়েছে।
জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আয়েশা আক্তার বলেন, আমরা আগামী অর্থ বছরের প্রকল্প গ্রহণ করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। পুরনো অর্থ বছরের কাজে অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।