অভিযুক্ত ইজারাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

যাদুকাটায় ৫ দিনে অর্ধশত কোটি টাকার বালু লুট

আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৫ ০৮:৫০:২২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-১০-২০২৫ ১২:৪৫:২০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার::
তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীর তীর কেটে এক সপ্তাহে লুট হয়েছে অর্ধশত কোটি টাকার বালু।
আর এতে ইজারাদাররা জড়িত বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বিপুল খনিজ সম্পদের আধার এই পাহাড়ি নদীটি রক্ষার দাবি জানানোয় প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ইজারাদারদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনসহ অবিলম্বে নদীর তীর কাটা বন্ধ করে নদীটিকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিরীহ এলাকাবাসীর উপর দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩২ বঙ্গাব্দে যাদুকাটা নদী-১ ও যাদুকাটা নদী-২ প্রায় শত কোটি টাকায় ইজারা দেয় সরকার। দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীর কেটে বালু আহরণ, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু পাথর লুটের কারণে নদীটি বিপন্ন হয়ে গেলে পরিবেশ আন্দোলন - ‘বেলা’ মামলা দায়ের করে। সরকার ইজারাপ্রথা বন্ধ রাখে। আদালতে সরকারের পক্ষে ইজারাদার আইনী লড়াই চালিয়ে কয়েক মাস আগে বেলার আদেশ স্থগিত করে বালু আহরণে নামে। মহালের নির্দিষ্ট এলাকায় সনাতন পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের কথা থাকলেও ইজারাদার তার ক্ষতি ‘পুষিয়ে’ নিতে নির্ধারিত সীমানার বাইরে ও নদীর তীর কেটে বালু আহরণ করতে থাকে। গত ৯ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ দিনে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার বালু লুট করে নিয়ে গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বালু আহরণ করে যাদুকাটা নদী হয়েই একমাত্র পথ দিয়ে নৌকা নিয়ে বেরুতে হয়। ফাজিলপুরে ইজারাদারের টোলটেক্স কার্যালয়কে অতিক্রম করে যেতে হয় প্রতিটি নৌকাকে। তখন এই লুটের বালু থেকে মোটা অংকের রয়্যালিটি আদায় করে ইজারাদারের লোকজন।
এদিকে বালু লুটের মহোৎসব থামাতে স্থানীয় নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষেরা প্রতিবাদ করলে তাদের শায়েস্তা করতে মামলা দায়ের করে ইজারাদারের লোকজন। প্রশাসনও আরো দুটি মামলা দায়ের করে। সরেজমিন যাদুকাটা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত বালু মহালের বাইরে ভূমির মালিকানাধীন ব্যক্তিরা নিয়ম বহির্ভূত তাদের জমি ইজারা দেয়। ঘাগটিয়া, মানিগাঁও, লাউড়েরগড়, শিমুল বাগান এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বালুভূমি নিয়ম বহির্ভূত ইজারা দিয়ে একটি চক্র লুট দীর্ঘদিন লুট করছে খনিজ বালু। পরিবেশ ও হাওর আন্দোলন করে এমন ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনরাও দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বালু লুটে জড়িত আছে। লুটের এই বালু থেকে আবার মোটা অংকের রয়্যালিটি আদায় করে ইজারাদার। অতীতের ইজারাদাররা ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবাধে লুট করেছে বালু ও পাথর। তবে এবার ‘মব’ করে ইজারাদারের সহযোগিতায় বালু লুট হয়েছে বলে স্থানীয়রা প্রতিবাদী কর্মসূচি করে জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি যাদুকাটা নদীর তীর কাটার বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় ৫১, ৩৭ ও ৩১ জনের নামে আলাদা মামলা হয়েছে। এসব মামলায় যারা আসামি হয়েছেন তাদের বেশিরভাগই নিরপরাধ ও ইজারাদারের নিয়মবহির্ভূত কাজের বিরোধিতাকারী হিসেবে পরিচিত। তাদেরকে আসামি করায় ১৭ অক্টোবর শুক্রবার নদীর তীরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী।
লাউড়েরগড় গ্রামের বাসিন্দা মরম আলী বলেন, ইজারা নিয়েই দুই ইজারাদার নির্ধারিত এলাকার বাইরে অবৈধভাবে বালু আহরণ শুরু করে। পরে তারা পাড় কাটা শুরু করে এবং পাড় কাটতে মব লেলিয়ে দেয়। গত ৯ অক্টোবর থেকে টানা ৫ দিন অর্ধ শত কোটি টাকার বালু লুট হয়েছে। যারা প্রতিবাদ করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে ইজারাদার।
একই গ্রামের মো. শাহজাহান বলেন, ইজারাদার লুটের বালু থেকে মোটা অংকের রয়্যালিটি আদায় করেছে। বালু লুটের পর তারা স্থানীয়দের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে অনেককে হয়রানি করছে। তিনি বলেন, বালু লুটে প্রশাসনের কিছু লোকও জড়িত। প্রশাসন ও ইজারাদার ছাড়া কেউ এখান থেকে এক বালতি বালুও লুট করার সাহস পাবেনা।
গ্রামের মধু মিয়া বলেন, বালু লুট করেছে যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ নদীর ইজারাদার। আওয়ামী লীগ আমলেও এরা বালু লুট করতো। এখনো করছে। এখন আবার নিজেরা লুট করে আমাদের নিরীহ মানুষদের হয়রানি করছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
যাদুকাটা নদী তীরের বাসিন্দা, লেখক ও সমাজকর্মী আবুল হোসেন বলেন, যাদুকাটা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে ইজারা বহির্ভূত এলাকায় বালু লুট হয়েছে। এখানে সরকার মামলা না করে ইজারাদার করেছে। যা তাদের এখতিয়ারে পড়েনা। তাছাড়া ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকে ইজারাদারের রয়্যালিটি নেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু লুটের বালু থেকে ইজারাদার রয়্যালিটি নিয়েছে। তাই বালু লুট ইজারাদাররা এড়িয়ে যেতে পারেনা।
তাহিরপুর থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, যাদুকাটা নদীর তীর কাটায় তিনটি পৃথক মামলা হয়েছে। আমরা দুটি মামলায় তদন্ত করে যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। একটি মামলার তদন্ত করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে পুলিশ বা প্রশাসন বালু লুটে জড়িত নয় বলে জানান তিনি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com