গ্রামপুলিশের ন্যায্য দাবি পূরণ হোক

আপলোড সময় : ১২-০৮-২০২৫ ০৮:১৫:৩৪ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৮-২০২৫ ০৮:১৫:৩৪ পূর্বাহ্ন
“দিন-রাত মানুষের নিরাপত্তা দিই, কিন্তু নিজের সংসারটা নিরাপদ রাখতে পারি না” - এ কথা শুধু একজন গ্রাম পুলিশের নয়, এটি গোটা বাহিনীর নিঃশব্দ আর্তনাদ। তারা পাহারা দেয় আমাদের ঘর, রক্ষা করে আমাদের প্রাণ, কিন্তু তাদের নিজের ঘরে অভাবের হাহাকার। মাসের শেষ দিকে অনেকের ঘরে চুলা জ্বলে না, সন্তানের মুখে হাসি ফুটে না, স্কুলের খাতাপত্র কিনে দেওয়াও হয়ে যায় এক দুঃস্বপ্ন। আমরা শহরে নিরাপদে ঘুমাই, কারণ দূরের কোনো গ্রামে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে একদল মানুষ অন্ধকার রাতে টহল দেয়। কিন্তু সেই প্রহরীরা-দফাদার, মহল্লাদার - যখন মাস শেষে হাতে পান ৮ হাজার বা ৭ হাজার ৫০০ টাকা, তখন সেই টাকা দিয়ে সংসার চালানো একপ্রকার অসম্ভব। এটি কি তাদের প্রাপ্য সম্মান? বছরের পর বছর তারা জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। ১৯তম ও ২০তম গ্রেডে উন্নীত করার কথা বলছে। কিন্তু এই দাবি যেন বালুর নিচে চাপা পড়ে থাকে, কেউ শোনে না। অথচ গ্রাম পুলিশদের ছাড়া গ্রামীণ আইন-শৃঙ্খলার চাকা এক মুহূর্তও সচল থাকতে পারবে না। তারা অপরাধ প্রতিরোধ করে, চুরি-ডাকাতি ঠেকায়, বিরোধ মেটায়, এমনকি দুর্যোগের সময় উদ্ধারকাজেও থাকে সামনের সারিতে। গ্রাম পুলিশের জীবন শুধু একটি চাকরি নয়, এটি এক ধরনের ত্যাগ। আমরা যদি চাই, দেশের প্রতিটি গ্রামের নিরাপত্তা বলয় শক্ত হোক, তাহলে সেই বলয় রক্ষাকারী মানুষগুলোকে আগে নিরাপদ করতে হবে। এখনই সময় এই প্রহরীদের চোখের জল মুছে দেওয়ার। জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি ও প্রাপ্য মর্যাদা দিয়ে তাদের জীবনে আলো ফিরিয়ে আনাই হবে প্রকৃত উন্নয়ন, প্রকৃত কৃতজ্ঞতা।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com