
ধর্মপাশা প্রতিনিধি :: ধর্মপাশা উপজেলায় এলজিইডি কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের কাছে (৫২) তাঁর মোবাইলফোনে কল দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও এসএসএম পাঠিয়ে হুমায়ূন কবীর নামের এক সাংবাদিক ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে এই ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই উপসহকারী প্রকৌশলীর মোবাইলে ভয়ভীতি সংক্রান্ত ও পত্রিকায় নিউজ লিখে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে একটি এসএমএসও পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই উপসহকারী প্রকৌশলী এ ঘটনায় শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ধর্মপাশা থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডি নম্বর ৭১৬। ভুক্তভোগী উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল তিনটার দিকে আমার মোবাইল নম্বরে একটি কল আসে। অপর প্রান্ত থেকে আমাকে বলা হয়, আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। এ নিয়ে তিনি পত্রিকায় নিউজ করবেন। তখন আমি বলি গত ২৮ বছর ধরে আমি সততা ও সুনামের সঙ্গে চাকরি করছি। কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি করিনি। তখন বলা হয় আপনি যাই করেন না কেন আপনার দুর্নীতির বিষয়ে লিখলে পত্রিকায় যে জায়গাটি লাগবে সেটিতে পত্রিকা অফিসের ৩৭ হাজার ৫০০টাকা খরচ হবে। এই টাকাগুলো বিকাশে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়। তাহলে পত্রিকায় নিউজ হবে না। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনি আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিউজ লিখে আমি ও আমার পরিবারের সুনাম নষ্ট করবেন বলে হুমকি দিয়ে কল কেটে দেন। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টা পর্যন্ত তিনি বেশ কয়েকবার আমাকে কল দিয়েছেন। কল রিসিভ না করায় শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই মোবাইল নম্বর থেকে তিনি আমার মোবাইল নম্বরে ভীতি ও হয়রানিমূলক একটি এসএমএস পাঠান। পরে উপজেলা প্রকৌশলী স্যারের পরামর্শে এ ঘটনায় আমি থানায় জিডি করেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তির মোবাইল নম্বরটি ট্রুকলারে সার্চ করলে হুমায়ূন কবীর জার্নালিস্ট নামটি ভেসে উঠে। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে মোবাইলে শুক্রবার বিকেলে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে সাংবাদিক বলে পরিচয় দিলেও কোন পত্রিকার সাংবাদিক তা জানাতে রাজি হননি। উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা চেয়েছেন কী না জানতে চাইলে তিনি এ নিয়ে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করার কথা বলে কলটি কেটে দেন। ধর্মপাশা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেলে থানায় জিডি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।