
সম্প্রতি সুবিপ্রবি (সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)-এর ক্যাম্পাস জেলা সদরে করার দাবি উঠেছে। গত মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর ২০২৪) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার-এর উপস্থিতিতে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আতাউল গণি। তিনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা। একদা মেহেরপুর ও টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে সারাদেশের জেলা শহরগুলোর উন্নতি হলেও সুনামগঞ্জের কোন পরিবর্তন হয় নি।’
তাঁকে তাঁর এবংবিধ বক্তব্য প্রদানের জন্যে ধন্যবাদ জানিয়ে বিব্রত করতে চাই না। কারণ তিনি সুনামগঞ্জের স্বজন, সুসন্তান, প্রিয়জন। কেবল বলি, তাঁকে আমরা সমর্থন করি। সুনামগঞ্জের উন্নয়ন বঞ্চনা তাঁকে আঘাত করবে এটাই স্বাভাবিক। তাঁর মনে জেগে থাকা জন্মজেলার উন্নয়ন ভাবনার সঙ্গে সমন্বিত করেই তিনি সুবিপ্রবির ক্যাম্পাস জেলা শহর ঘেঁষা করার দাবি উঠিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সদরের সাধারণ মানুষের যে এই উপলব্ধি ছিল না তেমন কিন্তু নয়। তাঁরাও চাইতেন সুনামগঞ্জের আশেপাশেই বিশ^বিদ্যালয়টি হোক। সুবিপ্রবি স্থাপনের স্থান সুনামগঞ্জ শহরের আশেপাশে নির্ধারণের জন্যে সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষ কাক্সিক্ষত ছিলেন এবং তাঁরা চেষ্টা যে করেন নি এমনও নয়। তাঁদের চেষ্টা সফল হয় নি। তাঁরা এখানকার রাজনীতিক সমাজের সমর্থন পান নি, সেটা পেয়েছিলেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের অধিবাসী তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী।
কেউ কেউ মনে করেন, এই ঘটনা সুনামগঞ্জের সার্বিক উন্নয়নের গতিকে প্রতিবন্ধকতাগ্রস্ত করেছে, অথবা বলা যায়, সুনামগঞ্জের উন্নয়নের ত্বরণকে স্থবির করেছে। এখন বুঝা না গেলেও আগামী দিনগুলোতে সুনামগঞ্জ যখন ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়বে তখন বুঝা যাবে। তাই সুবিপ্রবি’র ক্যাম্পাস সুনামগঞ্জ সদর ঘেঁষা করার প্রস্তাব তাৎপর্যের দিক থেকে অসামান্য ইতিবাচক। আমরা চাই এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হোক।