স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জের দুর্গম ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি আইনগত সহায়তা পৌঁছে দিতে ধর্মপাশা চৌকি আদালত লিগ্যাল এইড কমিটি সক্রিয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার ধর্মপাশা চৌকি আদালতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সুনামগঞ্জের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মপাশা চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াজুল কাউসার। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের সিনিয়র সিভিল জজ ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. জুনাইদ।
সভায় ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবীর সরকার, ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিক আহমেদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাহমিদা খানম, মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিবুর রহমান, স্থানীয় আইনজীবী সমিতির সদস্য, আইনজীবী সহকারী এবং স্থানীয় বিচারপ্রার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় দুর্গম দুই উপজেলার দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও সহজ, কার্যকর ও জনবান্ধব করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ধর্মপাশা চৌকি আদালত থেকে অনলাইনে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আপস-মীমাংসার আবেদন পাঠানোর ব্যবস্থা চালু এবং চৌকি আদালতের প্যানেল আইনজীবীদের সরকারি সম্মানী পরিশোধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সভায় স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ লিগ্যাল এইড সেবা চালুর দাবি জানানো হয়। প্রতি মাসে অথবা অন্তত দুই মাসে একবার এ সেবা চালু হলে দুর্গম এলাকার মানুষকে নিজ নিজ এলাকায় আইনগত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।
স্থানীয় জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. জুনাইদ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, চৌকি আদালত লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রম সক্রিয়করণ, অনলাইন আবেদন গ্রহণ এবং ভ্রাম্যমাণ আইনগত সহায়তা সেবা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ধর্মপাশা ও মধ্যনগরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সহজে, স্বল্প ব্যয়ে এবং নিজ এলাকার কাছাকাছি থেকে সরকারি আইনগত সহায়তা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আইনগত অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণের প্রত্যয় নিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।