স্টাফ রিপোর্টার ::
কৃষকদের জন্য মানসম্মত বীজ নিশ্চিত করার দায়িত্ব যে দপ্তরের, সেই সুনামগঞ্জ জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়েই ব্যক্তিগত বীজ মজুত ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি কার্যালয়ে বীজের মজুত গড়ে তোলা হয়েছে এবং সেখান থেকেই বীজ বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বীজ ডিলারদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারি দপ্তরকে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
স্থানীয় বীজ ডিলারদের অভিযোগ, বীজের মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রত্যয়ন কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা সরকারি কার্যালয়ে ব্যক্তিগত বীজ মজুত ও বিক্রির ঘটনা দাপ্তরিক শৃঙ্খলা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি কার্যালয়ে এ ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার প্রামাণিক বলেন, সরকারি অফিসে বীজ রেখে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তিনি যে বাসায় ভাড়া থাকেন, ওই বাসার মালিকের জায়গার সংকট থাকায় কিছুদিনের জন্য তার অফিসে বীজ রেখেছিলেন।
এদিকে দিগন্ত সীড ইমপেক্সের স্বত্বাধিকারী দীপক চৌধুরী তাঁর লিখিত বক্তব্যে রঞ্জন কুমার প্রামাণিকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা এবং সরকারি অফিসে পণ্য মজুত ও বিক্রির অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের কথা বলে রঞ্জন কুমার প্রামাণিক তাঁর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। পরে ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরে যেতে হয়।
দীপক চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে তিনি স্বেচ্ছায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে দিয়েছেন - এমন বক্তব্য দিয়ে একটি ভিডিও ধারণ করা হয়। তাঁর দাবি, ওই ভিডিওর বক্তব্য ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও শেখানো।
তবে ব্যবসায় অংশীদারত্বের অভিযোগ নাকচ করে রঞ্জন কুমার প্রামাণিক বলেন, প্রথমে তাকে ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুঁজি না থাকায় তিনি রাজি হননি। তারা নিজেরাই ব্যবসা করছেন, এর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দেখা মেলেনি।
কৃষকদের জন্য মানসম্মত বীজ নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকা সরকারি দপ্তরে বীজ মজুত ও বিক্রির অভিযোগ এবং ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি সরকারি কার্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।