স্টাফ রিপোর্টার::
দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (ইমপ্যাক্ট ফেজ-৩) প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাদেরটেক গ্রামের আলহাজ্ব মজিবুর রহমানের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জের বাস্তবায়নে নির্মিত এ বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাজসেবক বিল্লাল মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার, সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জাফর ইকবাল চৌধুরী, সলুকাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী তপন এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের উদ্যোক্তা আলহাজ্ব মজিবুর রহমান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম অত্যন্ত চড়া। এ অবস্থায় বায়োগ্যাস উৎপাদন করতে পারলে জ্বালানি খরচ অনেকটাই সাশ্রয় হবে।
তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস উৎপাদনে সরকার মানুষকে উৎসাহিত করছে। এর উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। যাঁরা বায়োগ্যাস উৎপাদনে উদ্যোগী হবেন, তাঁদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কম্পিউটার প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর কবীর, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের ক্রেডিট ও মার্কেটিং অফিসার মো. হাফিজুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী আকাশ তালুকদার, কমিউনিটি সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, সাফিউর রহমান ও লিটন শর্মা এবং অফিস সহকারী তাকবির ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সলুকাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহ পরান, সাবেক ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই, আব্দুল হাই মোড়ল, লুৎফুর রহমানসহ স্থানীয় খামারি, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের উদ্যোক্তা আলহাজ্ব মজিবুর রহমান বলেন, প্রায় দুই মাস আগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা এলাকায় একটি বাণিজ্যিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট দেখে তাঁর নিজেরও এমন একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তিনি এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন এবং পর্যায়ক্রমে খামারে বিদেশি জাতের গরুর সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তাঁর খামারে ১৫টি গরু রয়েছে।
তিনি বলেন, গরুর সঠিক পরিচর্যার জন্য চার একর জমিতে পাওয়ারা ঘাসের চাষ করেছেন। গরুকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে মশারি ব্যবহার ও মশা নিধনের ওষুধ প্রয়োগ করেন। প্রতিদিন গরুকে গোসল করানো, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি গোয়ালঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। বর্তমানে প্রতিটি গরু থেকে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ লিটার দুধ পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করা হয়।
মজিবুর রহমান আরও বলেন, গরুর গোবর ব্যবহার করে তিনি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটি নির্মাণ করেছেন। এতে অন্তত ১০টি চুলা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আরও নয়টি পরিবারকে গ্যাসের চুলা সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এলাকায় গ্যাসের চুলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্ল্যান্টটি নির্মাণে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ পেয়েছেন তিনি।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী আকাশ তালুকদার বলেন, প্ল্যান্টটিতে ১৭ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মাটি খনন করে পাকা ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সমপরিমাণ পানি ও গোবর মিশিয়ে কাঁচামাল তৈরি করা হয়। প্রথমবার গ্যাস উৎপাদন শুরু হতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগে।
তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট গোবরজাত বর্জ্য জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এ বর্জ্য মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব।
সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জাফর ইকবাল চৌধুরী বলেন, আমরা জেলার বিভিন্ন স্থানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করার ব্যবস্থা করেছি। আমরা প্রত্যেককে ঋণ দিয়েছি। যারা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করেছেন, এটি অন্তত ৫০ বছর চলবে। এই দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা নিয়ে এগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে ব্যাপক প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা (ইমপ্যাক্ট ফেজ-৩) প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাদেরটেক গ্রামের আলহাজ্ব মজিবুর রহমানের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সুনামগঞ্জের বাস্তবায়নে নির্মিত এ বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাজসেবক বিল্লাল মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার, সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জাফর ইকবাল চৌধুরী, সলুকাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে আলম সিদ্দিকী তপন এবং বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের উদ্যোক্তা আলহাজ্ব মজিবুর রহমান।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাজারে এলপিজি গ্যাসের দাম অত্যন্ত চড়া। এ অবস্থায় বায়োগ্যাস উৎপাদন করতে পারলে জ্বালানি খরচ অনেকটাই সাশ্রয় হবে।
তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস উৎপাদনে সরকার মানুষকে উৎসাহিত করছে। এর উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। যাঁরা বায়োগ্যাস উৎপাদনে উদ্যোগী হবেন, তাঁদের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কম্পিউটার প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আলমগীর কবীর, ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের ক্রেডিট ও মার্কেটিং অফিসার মো. হাফিজুর রহমান, উপসহকারী প্রকৌশলী আকাশ তালুকদার, কমিউনিটি সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, সাফিউর রহমান ও লিটন শর্মা এবং অফিস সহকারী তাকবির ইসলাম।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সলুকাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহ পরান, সাবেক ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই, আব্দুল হাই মোড়ল, লুৎফুর রহমানসহ স্থানীয় খামারি, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের উদ্যোক্তা আলহাজ্ব মজিবুর রহমান বলেন, প্রায় দুই মাস আগে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মঙ্গলকাটা এলাকায় একটি বাণিজ্যিক বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট দেখে তাঁর নিজেরও এমন একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের আগ্রহ তৈরি হয়। পরে তিনি এ বিষয়ে উদ্যোগ নেন এবং পর্যায়ক্রমে খামারে বিদেশি জাতের গরুর সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তাঁর খামারে ১৫টি গরু রয়েছে।
তিনি বলেন, গরুর সঠিক পরিচর্যার জন্য চার একর জমিতে পাওয়ারা ঘাসের চাষ করেছেন। গরুকে মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে মশারি ব্যবহার ও মশা নিধনের ওষুধ প্রয়োগ করেন। প্রতিদিন গরুকে গোসল করানো, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া এবং রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি গোয়ালঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। বর্তমানে প্রতিটি গরু থেকে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ লিটার দুধ পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয় হাটবাজারে বিক্রি করা হয়।
মজিবুর রহমান আরও বলেন, গরুর গোবর ব্যবহার করে তিনি বায়োগ্যাস প্ল্যান্টটি নির্মাণ করেছেন। এতে অন্তত ১০টি চুলা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় আরও নয়টি পরিবারকে গ্যাসের চুলা সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এলাকায় গ্যাসের চুলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্ল্যান্টটি নির্মাণে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ পেয়েছেন তিনি।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী আকাশ তালুকদার বলেন, প্ল্যান্টটিতে ১৭ ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় মাটি খনন করে পাকা ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সমপরিমাণ পানি ও গোবর মিশিয়ে কাঁচামাল তৈরি করা হয়। প্রথমবার গ্যাস উৎপাদন শুরু হতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগে।
তিনি আরও বলেন, বায়োগ্যাস উৎপাদনের পর অবশিষ্ট গোবরজাত বর্জ্য জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এতে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এ বর্জ্য মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব।
সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. জাফর ইকবাল চৌধুরী বলেন, আমরা জেলার বিভিন্ন স্থানে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করার ব্যবস্থা করেছি। আমরা প্রত্যেককে ঋণ দিয়েছি। যারা বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করেছেন, এটি অন্তত ৫০ বছর চলবে। এই দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনা নিয়ে এগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।