বিশেষ প্রতিনিধি ::
প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে পতিত জমিতে মাল্টার বাগান গড়ে সাফল্যের মুখ দেখেছেন দোয়ারাবাজার উপজেলার পশ্চিম মাছগাঁও গ্রামের সাইফুর রহমান। চার বিঘা পতিত জমিতে মাল্টা চাষ করে প্রথমবারেই ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি। বাগানে উৎপাদিত সুস্বাদু মাল্টা কিনতে আসছেন ক্রেতারা। তার এই সাফল্য দেখে মাল্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও।
একসময় জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন সাইফুর রহমান। প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে পতিত জমিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেন তিনি। প্রচলিত কর্মসংস্থানের বাইরে কৃষিকে বেছে নিয়ে চার বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন মাল্টার বাগান। আধুনিক পদ্ধতিতে গড়ে তোলা বাগানে প্রথমবারেই ভালো ফলন পাওয়ায় খুশি তিনি।
বাগানের গাছগুলোতে ঝুলছে অসংখ্য মাল্টা। কোনোটি সবুজ, আবার কোনোটি পাকতে শুরু করেছে। বাগান থেকে সরাসরি মাল্টা কিনছেন ক্রেতারা। ফরমালিনমুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ফলটির চাহিদাও রয়েছে। এ বছর বাগান থেকে লাভবান হওয়ার আশা করছেন সাইফুর রহমান। প্রথমবারের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে ভবিষ্যতে বাগানের পরিসর আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
সাইফুর রহমানের এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৃষির প্রতি নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বেকার তরুণেরা পতিত জমিতে মাল্টা চাষকে বিকল্প কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাময় মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় কয়েকজন তরুণ জানান, সাইফুর রহমানের বাগান দেখে তাঁরা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
পতিত জমিতে পরিকল্পিতভাবে মাল্টা চাষ করে ভালো ফলন ও লাভ করা সম্ভব এমন ধারণা তৈরি হয়েছে তাঁদের মধ্যে। সরকারি সহযোগিতা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেলে তাঁরাও মাল্টা চাষে উদ্যোগী হতে চান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি সহযোগিতা ও কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ পেলে আরও অনেকে মাল্টা চাষে এগিয়ে আসবেন। এতে পতিত জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
দোয়ারাবাজা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আলী আজগর বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তা নিয়ে পতিত জমিতে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।