জেলার ৪৪৪ মন্ডপে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

দুর্গাপূজায় থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা

আপলোড সময় : ১৫-১০-২০২৬ ০৯:০২:৪৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-১০-২০২৬ ০৯:১১:২১ পূর্বাহ্ন
জালাল উদ্দিন নাসিম::
নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, কাশফুলের দোলায় শরতের আগমনী বার্তা। প্রকৃতির স্নিগ্ধতা আর ঢাকের অপেক্ষায় উৎসবের রঙে সেজে উঠছে সুনামগঞ্জ। দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে জেলার ১২টি উপজেলায় ৪৪৪টি পূজামন্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমায় রং করা, মন্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও আয়োজকেরা। অন্যদিকে, দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ রাখতে তিন ধাপে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে জেলা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। দেবী দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমাও সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি স¤পন্ন করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। মহাষষ্ঠীর আগেই সব কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিমা দেখতে আসা দর্শনার্থী ও শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ মন্ডপে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। দেবী দুর্গার আগমন ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ-উৎসাহ। পূজার দিনগুলোতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে উৎসব উপভোগের অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে। প্রতিমা তৈরির কাজে যুক্ত জয় দাস বলেন, প্রায় এক মাস ধরে তারা মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। এখন কাজ শেষ পর্যায়ে। মহাষষ্ঠীর আগেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে সবার মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে সবাই মিলেমিশে কাজ করছেন। সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্ণব তালুকদার জানায়, স্কুল শেষে বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিমা দেখতে এসেছে সে। পূজা শুরু হলে সবাইকে মন্ডপে এসে প্রতিমা দর্শন ও উৎসবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানায় সে। ঋষিকেশ বণিক বলেন, মহালয়া শেষ হয়েছে। এখন দেবী দুর্গাকে বরণ করার প্রস্তুতি চলছে। পূজাকে ঘিরে সবার মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করছে। পূর্ব নতুনপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সভাপতি স্বপন চন্দ্র সরকার বলেন, তাদের মন্ডপ সাজানোর কাজ প্রায় শেষ। প্রতিমায় রং করার কাজও স¤পন্ন হয়েছে। এখন চলছে আলোকসজ্জার কাজ। আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছেন তারা। প্রায় ৪০ বছর ধরে পূর্ব নতুনপাড়ায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বলেও জানান তিনি। নবীনগরের প্রতিমাশিল্পী যোগেশ্বর বলেন, দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরি তাদের কাছে শুধু পেশা নয়, আবেগ ও ভালোবাসার বিষয়। সারা বছর তারা এ উৎসবের অপেক্ষায় থাকেন। তবে অনেক সময় পূজার অল্প কিছুদিন আগে প্রতিমা তৈরির অর্ডার পাওয়ায় কাজ শেষ করতে বাড়তি চাপ নিতে হয়। আগে থেকে অর্ডার পেলে পরিকল্পিতভাবে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে প্রতিমা তৈরির সুযোগ পাওয়া যায়। দেবী দুর্গার আগমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক। দুর্গোৎসব পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে। এ কারণেই সারা বছর তাঁরা দুর্গোৎসবের অপেক্ষায় থাকেন। শিক্ষাবিদ প্রফেসর পরিমল কান্তি দে বলেন, দুর্গোৎসব আনন্দ ও জাগরণের প্রতীক। রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গণে প্রতিবছরের মতো এবারও সাত্ত্বিকভাবে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। শারদোৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্রেশ রায় বাপ্পী বলেন, এ বছর জেলার ১২টি উপজেলায় ৪৪৪টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সুনামগঞ্জ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দরভাবে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে তারা কাজ করছেন। পূজার প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তারা খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দুর্গোৎসব ঘিরে তিন ধাপে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন। তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নির্বিঘেœ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পূজার আগে, পূজার দিনগুলোতে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় - এই তিন ধাপে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, প্রতিটি পূজামন্ডপের পরিস্থিতি ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হবে। কোনো কোনো মন্ডপে স্থায়ীভাবে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন, আবার কোথাও ভ্রাম্যমাণ পুলিশ দল দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সাদাপোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বে থাকবেন। নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূজামন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে আজান ও নামাজের সময় উচ্চ শব্দে মাইক বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে। পূজা উদযাপন-সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ এসব বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অতীতের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব স¤পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে মন্ডপের সাজসজ্জা ও আলোকায়ন - সবই প্রায় শেষ পর্যায়ে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি স¤পন্ন হবে। প্রশাসন, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত সহযোগিতায় সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে - এমন প্রত্যাশা সবার।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com