বিশ্বম্ভরপুরে সক্রিয় প্রভাবশালী চক্র

সড়কপথে পাচার হচ্ছে লুটের বালু, রাতের আঁধারে অর্ধশতাধিক যানবাহনে বালু পরিবহন, ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিককে হেনস্তা

আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:২৪:৫৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:২৫:৪০ পূর্বাহ্ন
শহীদনূর আহমেদ::
বিশ্বম্ভরপুরে প্রশাসনের নাকের ডগায় ইজারাবিহীন নদী, খাল ও ছড়া থেকে বালু উত্তোলন করে সড়কপথে পাচারের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। দিন-রাত সমানতালে ট্রলি, নছিমন ও পিকআপে করে এসব বালু পরিবহন করা হচ্ছে। অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে পাল্টে যাচ্ছে জমি ও খালের ভূপ্রকৃতি। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক। বালু লুটের চিত্র ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকসহ প্রতিবাদকারীরা হেনস্তা ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে তারা সতর্ক রয়েছে। আর এ বিষয়ে তথ্য জানা নেই বলে জানিয়েছেন বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। গত কয়েক দিন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চালবান, বাঘবেড়, মথুরকান্দি, কাপনা ও কারেন্টের বাজার সড়ক দিয়ে ইজারাবিহীন কাপনা খাল ও ধোপাজান নদীর বালু পরিবহন করা হচ্ছে। দিনের তুলনায় রাতের বেলায় বালুবাহী যানবাহনের চলাচল বেড়ে যায়। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রাতের আঁধারে অর্ধশতাধিক যানবাহন ব্যবহার করে চলে বালু পরিবহনের এ কার্যক্রম। প্রতিটি বালুবাহী যান থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করে একটি চক্র। কারেন্টের বাজার এলাকার রুমেল নামের এক যুবক এ চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। কারেন্টের বাজার এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাতে এই সড়ক দিয়ে অনেক বালুবাহী ট্রলি চলাচল করে। মথুরকান্দি হয়ে এসব ট্রলি আসে। এর পেছনে একটি চক্র রয়েছে। তারা প্রশাসনের লোকজনের সঙ্গে আঁতাত করে বালু লুট করছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কয়েক দিন আগে বালুবাহী ট্রলির ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পলাশ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, রাতে কিছু বালুবাহী ট্রলি চলাচল করে। তবে এর সঙ্গে তাদের কারও স¤পৃক্ততা নেই। কয়েক দিন আগে এক সাংবাদিকের ভিডিও ধারণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে আটকে রাখা ও তার ওপর চড়াও হওয়ার খবর পেয়েছিলেন তিনি। পরে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করা হয় বলে দাবি করেন এই ইউপি সদস্য। কারা বালু উত্তোলন করছে - এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারবেন না। তবে এলাকার কিছু তরুণ মাঝেমধ্যে বালু নিয়ে আসে বলে জানান তিনি। অনুসন্ধানে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মিজানুর, হাফিজ, সুলেমান, শাহজাহান, দীন ইসলাম, বিল্লাল, ইউনুস, সবুজ, জুলহাস ও সাদ্দামসহ একাধিক ব্যক্তি এ কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মথুরকান্দি ও কাপনা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে অবৈধভারব বালু উত্তোলনের চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের ফলে খাল ও আশপাশের জমির স্বাভাবিক আকৃতি বদলে যাচ্ছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে গুচ্ছগ্রামের ঘরবাড়ি এবং মথুরকান্দি সড়ক। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বসতভিটা, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না অনেকে। এমনকি বালু পরিবহনের দৃশ্য ধারণ করতে গেলেও বাধার মুখে পড়তে হয়। ফলে প্রকাশ্যে চলাচল করা বালুবাহী যানবাহন ও বালু উত্তোলনের স্থান সম্পর্কে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও কার্যকর প্রতিকার মিলছে না। অপরদিকে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার। তিনি বলেন, বালু লুটের বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছি। তবে যারা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, ঘটনাস্থলে গেলে অনেক সময় তাদের পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাদ উল্যা ভূঁইয়া বলেন, সড়কপথে লুটের বালু বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য নেই। তবে এ কাজে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারেন্টের বাজার এলাকার রুমেলের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল ধরেননি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : dailysunamkantha@gmail.com
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com