স্টাফ রিপোর্টার ::
জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, অবাধ ট্রেড
ইউনিয়ন অধিকার, রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং বন্দর ও করিডোর ইজারা বাতিলসহ ১০ দফা দাবিতে
সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ
সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রায়পাড়াস্থ সংগঠনের অস্থায়ী
কার্যালয় থেকে লাল পতাকাসহ বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ
করে আলফাত উদ্দিন চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টুর
সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ স¤পাদক মনির মিয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয়
গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি রতœাঙ্কুর দাস জহর,
সাধারণ স¤পাদক সাইফুল আলম ছদরুল, স-মিল শ্রমিক ফেডারেশনের সহসভাপতি আইয়ুবুর
রহমান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা হোটেল,
রেস্টুরেন্ট, মিষ্টি ও বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ স¤পাদক টিটু দাস, সুনামগঞ্জ সদর
উপজেলা রিকশা-ভ্যান শ্রমিক সংঘের সভাপতি আব্দুর রউফ, পৌর কমিটির সভাপতি মতিউর
রহমান, হকার্স শ্রমিক সংঘ সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাংগঠনিক স¤পাদক বিনন্দ কর
প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক জাতীয় ও
জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করায় সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা অসহনীয় হয়ে
উঠেছে। দফায় দফায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে দ্রব্যমূল্যও বেড়ে চলেছে।
এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নাভিশ্বাস উঠেছে।
বক্তারা আরও বলেন, জাতীয় ও জনস্বার্থ উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এনডিএ চুক্তি
স্বাক্ষর করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ওই চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করে চলায় দেশের কৃষি, অর্থনীতি
ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি হুমকির মুখে পড়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তারা বলেন, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার
দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও এ বিষয়ে সরকারের ভূমিকা রহস্যজনক।
শ্রমিকদের জীবনমান বিবেচনায় অবিলম্বে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা,
গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম কমানো, বন্দর ইজারা প্রদানের উদ্যোগ বন্ধ এবং সর্বস্তরের
মানুষের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো তাদের অতিউৎপাদন সংকট থেকে
উত্তরণের পথ হিসেবে যুদ্ধকে সামনে নিয়ে আসছে। পুঁজি ও শক্তির অনুপাতে বিশ্বকে ভাগ-
বাটোয়ারার প্রতিযোগিতা তীব্র হয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ বাড়ছে। বাংলাদেশের
ভূরাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্বের কারণে দেশকে ঘিরে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা ও
প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হচ্ছে। বাংলাদেশকে আগ্রাসী যুদ্ধের সঙ্গে স¤পৃক্ত করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত
চলছে বলেও তারা দাবি করেন।