স্টাফ রিপোর্টার ::
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উত্তোলিত টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় বিশ্বম্ভরপুর মুরারি চাঁদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। রবিবার দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. নূরুল হক সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহীন উদ্দিন ও ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি আব্দুল হেকিমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেবে আদায়কৃত অর্থ ও বিদ্যালয়ের অর্থ তছরুপের অভিযোগে মামলা দায়ের হলে গত আগস্ট মাসে গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে এই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পবিত্র ভূষণ সরকার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহীন উদ্দিন ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল হেকিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে স্কুলের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিদ্যালয়ের সেশন ফি, পরীক্ষা ফি, টিউশন ফি ও ছাত্রছাত্রীদের বেতন স্কুলের সোনালী ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট শাখায় জমা হয়। খরচের নামে মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত ছাড়াই টাকা উত্তোলন করে বিদ্যালয়ের কাজের কথা বলে তারা প্রায় ৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। পরবর্তীতে আদালত গোয়েন্দা পুলিশকে অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন জমাদানের আদেশ দেন। গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হযরত আলী গত ১৯ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহীন উদ্দিন ও সাবেক সভাপতি আব্দুল হেকিমের জড়িত থাকার ঘটনা প্রতিবেদনে ওঠে আসে। এদিকে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের পর রবিবার আদালতে জামিন নিতে আসেন দুই অভিযুক্ত। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
মামলার বাদী পবিত্র ভূষণ সরকার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। রবিবার আদালতে জামিন নিতে আসলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন।
সুনামগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈনুদ্দিন সোহেল দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।