স্টাফ রিপোর্টার ::
দিরাইয়ে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি বিষয়ে বিরোধের জের ধরে নারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যায় দায়েরকৃত মামলায় মো. আজলু মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। রবিবার সুনামগঞ্জের ১ম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এ রায় দেন।
মামলা সূত্রে জানাযায়, দিরাই উপজেলার মাতারগাঁও গ্রামের মৃত আছির মামুদের ছেলে আজলু মিয়ার সঙ্গে মামলার বাদী মো. মফশ্বির আলীর শাশুড়ির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাতে বাদীর চাচা শ্বশুর আজলু মিয়া চিকিৎসার অজুহাতে বাদীর বাড়িতে যান এবং সেখানে অবস্থান করেন। পরদিন ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাদী মফশ্বির আলী বাড়ির বাইরে থাকাকালে আজলু মিয়া লোহার হাতুড়ি দিয়ে বাদীর শাশুড়ি মোছা. হামিদা খানম (৬০)-এর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। গুরুতর আহত হামিদা খানমকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া বাদীর মেয়ে (৪)-এর মাথায়ও হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে আজলু মিয়া। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় আজলু মিয়ার বিরুদ্ধে দিরাই থানায় মামলা করেন নিহতের জামাতা মফশ্বির আলী। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজলু মিয়াকে দ-বিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেওয়া হয়।