জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ শয্যার বিপরীতে ৭৯ জন রোগী ভর্তি। তাদের মধ্যে ৩৩ জন হাম আক্রান্ত। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক চিকিৎসক ও নার্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। একই সঙ্গে নির্মাণ শেষ হওয়া ৫০ শয্যার নতুন ভবন চালু না হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। বিভাগীয় পরিচালক শিগগির চিকিৎসক নিয়োগ এবং ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালুর আশ্বাস দিয়েছেন। আশ্বাসটি অবশ্যই আশাব্যঞ্জক; কিন্তু প্রশ্ন হলো - এই সংকট নিরসনে আর কত দিন অপেক্ষা করতে হবে?
জামালগঞ্জের চিত্রটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সুনামগঞ্জের অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্টসহ বিভিন্ন জনবলের সংকটে ভুগছে। চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের ৮০৯টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৪৩৬টিই শূন্য ছিল। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি পদে জনবল না থাকায় প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা কতটা চাপে রয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।
এ সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হাওরের সাধারণ মানুষ। বর্ষায় নৌপথনির্ভর যোগাযোগ, দূরত্ব ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসাই তাঁদের প্রধান ভরসা। সেখানে চিকিৎসক না থাকলে কিংবা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার লোকবল না থাকলে রোগীকে জেলা সদর বা অন্যত্র পাঠানো হয়। এতে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে, সময় নষ্ট হয় এবং জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে ঝুঁকিও বাড়ে।
শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয় না। হাসপাতাল চালাতে হলে প্রয়োজন চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ পূর্ণাঙ্গ জনবল। অবকাঠামো তৈরি করে জনবল না দেওয়া হলে সেটি জনগণের অর্থে নির্মিত আরেকটি অচল স্থাপনায় পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই সুনামগঞ্জের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে। হাওরাঞ্চলের দুর্গমতা বিবেচনায় চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, আবাসন ও যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ৫০ শয্যায় উন্নীত হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে কার্যক্রম চালু করতে হবে।
জামালগঞ্জে বিভাগীয় পরিচালকের দেওয়া আশ্বাস যেন কেবল পরিদর্শন-পরবর্তী আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থাকে। সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট নিরসনে সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে জরুরি। হাওরের মানুষের স্বাস্থ্য অধিকার কোনো দয়া নয় - এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব।