স্টাফ রিপোর্টার ::
বৃষ্টির পর এখানে-সেখানে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা ঝোপঝাড় - চোখে হয়তো তেমন কিছু নয়। কিন্তু এসব জায়গাই হয়ে উঠতে পারে এডিস মশার প্রজননস্থল। আর সেখান থেকেই ছড়িয়ে পড়তে পারে ডেঙ্গু। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় কোনো উদ্যোগের পাশাপাশি প্রয়োজন নিজেদের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা।
এই বার্তাই সামনে রেখে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পরিচালিত হয়েছে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শনিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। সকাল থেকেই তারা উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়েন। রাস্তা, ড্রেন, ঝোপঝাড় ও বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেসব স্থান পরিষ্কার করা হয়।
অভিযানকালে বিভিন্ন স্থানে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো হয়। জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র ও ডাবের খোসা অপসারণের পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করা হয়। ডাস্টবিন ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, দেশব্যাপী ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। জনগণকে সচেতন করতেই এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু প্রশাসন বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সম্মিলিত সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।