বাংলাদেশ হয়ে উঠার ঐতিহাসিক গল্প

আপলোড সময় : ১৯-০৯-২০২৬ ০১:৪৭:৩৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৯-২০২৬ ০১:৪৮:৩২ পূর্বাহ্ন
::মোহাম্মদ আব্দুল হক::
সম্প্রতি ডাকসু’র সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি গৌরবোজ্জ্বল ছবি সরানো ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র ছবি সংযোজনকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে সর্বত্র। এইসাথে উঠে এসেছে বাংলাদেশ হয়ে উঠার প্রসঙ্গ। হ্যাঁ, স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫ বছরের এই সময়ে বহুবার বাংলাদেশ হয়ে উঠার প্রসঙ্গে বহু রকম বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে। এর কারণ, আমাদের এখানে যারা সরাসরি রাজনৈতিক দলের সাথে থেকে রাজনীতি করেন, সমর্থন করেন এবং যারা সমাজ সচেতন মানুষ হিসেবে বিভিন্ন সভা সমাবেশে দেশের কথা, রাজনীতির কথা বলি তাদের প্রায় সকলেই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ধারাবাহিকভাবে পড়ি না অথবা পড়লেও ভুলে যাই। আমেরিকার স্বাধীনতার যেমন গল্প আছে, ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীন হওয়ার যেমন গল্প আছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতারও দীর্ঘ সংগ্রামের, ত্যাগের, সাহসের, গৌরবের ঐতিহাসিক গল্প আছে। তবে একটা ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আছে। নিজের দেশের স্বাধীনতার কথা জানতে হয়। আজকে আমরা ধাপে ধাপে কিন্তু খুবই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় জানবো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ধারাবাহিক সংগ্রামের ঐতিহাসিক গল্প। এখানে আমার বানানো কোনো কথা নয়, সবই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে খুঁজে পাওয়া। আজকের এই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ ও বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস খুঁজতে হলে ১৯৪০ খ্রীষ্টিয় সালের শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হকের লাহোর প্রস্তাব, এরপর ১৯৪৭ খ্রীষ্টিয় সালের ভারত ও পাকিস্তান দুই রাষ্ট্র, ১৯৫২ খ্রীষ্টিয় সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ খ্রীষ্টিয় সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ খ্রীষ্টিয় সালের ৬ দফা ঘোষণা, ১৯৬৯ খ্রীষ্টিয় সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ খ্রীষ্টিয় সালের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালের ৭ মার্চে তৎকালীন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি মিলিটারির হামলা, স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার, মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি, এগারোটি সেক্টর এবং পাকিস্তানি মিলিটারির আত্মসমর্পণ - এসব নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। আসুন পিছনে ফিরে ইতিহাস থেকে খুঁজে পাওয়া থেকে জানি। মনে রাখতে হবে উল্লেখিত প্রতিটি অধ্যায়ই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ এবং বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জনের একেকটি মূল স্তম্ভ। এই ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়েই একটি পরাধীন জাতি পর্যায়ক্রমে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার দিকে ধাবিত হয়েছিলো। প্রথম ধাপে ১৯৪০ খ্রীষ্টিয় সালের লাহোর প্রস্তাব যা ২৩ মার্চ শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক উত্থাপন করেন। উত্থাপিত প্রস্তাবটিতে শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক একাধিক রাষ্ট্র গঠনের চিস্তা তোলে ধরেছিলেন যাতে ভারতের উত্তর-পশ্চিম অর্থাৎ বর্তমান পাকিস্তান ও উত্তর-পূর্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (ওহফবঢ়বহফবহঃ ঝঃধঃবং) গঠনের কথা বলা হয়েছিলো। কিন্তু পরে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কূটকৌশলে এটি পরিবর্তন করে ঝঃধঃবং এর ং বাদ দিয়ে একটি একক পাকিস্তান গঠন করেন। তবে এই প্রস্তাবের মধ্যেই প্রকৃত অর্থে পূর্ব বাংলায় একটি পৃথক স্বাধীন ভূখ-ের প্রাথমিক আইনি ও রাজনৈতিক বীজ নিহিত ছিলো যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়। দ্বিতীয় ধাপে ভারত ভাগ হয়ে ১৯৪৭ খ্রীষ্টিয় সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৪ আগস্ট পাকিস্তান ও ১৫ আগস্ট ভারত নাম নিয়ে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তখন থেকে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিকভাবে বহুল পরিচিত পূর্ব বাংলা ‘পূর্ব পাকিস্তান’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে শুরু থেকেই সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও ভাষাগত বৈষম্যের কারণে এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এক ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়ে বাঙালি আরেক ঔপনিবেশিক শোষণের মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষা বাংলা। ইতিমধ্যে ঢাকা, সিলেট, যশোরসহ বিভিন্ন জায়গায় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কিন্তু প্রথম আঘাত আসে আমাদের বাংলা ভাষার উপর। ১৯৪৮ খ্রীষ্টিয় সালের ২১ মার্চ তারিখে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ও ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে বলেন, “টৎফঁ, ধহফ ড়হষু টৎফঁ ংযধষষ নব ঃযব ংঃধঃব ষধহমঁধমব ড়ভ চধশরংঃধহ”. অর্থাৎ “উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা।” এর মাধ্যমে বাঙালির কাছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর জনপ্রিয়তা অনেকাংশে কমে যায়। তাৎক্ষণিক এর প্রতিবাদ করে বাংলার ছাত্র জনতা। এরপর ধারাবাহিক আন্দোলনে আসে ১৯৫২ খ্রীষ্টিয় সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন। এখানে দেখা যায়, কোটি কোটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মুখের ভাষাকে উপেক্ষা করে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে বাঙালি ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। ২১ ফেব্রুয়ারি সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে জীবন দেন। অবশেষে, তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমাদের বাংলা ভাষা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা পায়। আজ এই একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত। এ আমাদের গৌরব। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন বাঙালির দাবি আদায়ের এক মাইলফলক। এখান থেকেই আমরা বারবার অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রেরণা খুঁজে পাই। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন বাঙালিকে অনুধাবন করায় যে, আমাদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই করে বিজয় আনা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নাই। গভীর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় আমাদের পরবর্তী সকল স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে উঠেছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে। তাই আমরা নিশ্চিত বলতে পারি একুশে ফেব্রুয়ারি বারবার আমাদেরকে পথ দেখায়। পরবর্তী ধাপে সামনে আসে ১৯৫৪ খ্রীষ্টিয় সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন। ওই নির্বাচনে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট যা ২১ দফার ভিত্তিতে তৎকালীন পাকিস্তানের শাসক দল মুসলিম লীগকে নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। তখনকার ওই নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তরুণ নেতারা মুখ্য ভূমিকা রাখেন। এই নির্বাচনের ফল প্রমাণ করে যে, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় দুঃশাসনকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই নির্বাচন স্মরণীয় কারণ, ওই নির্বাচনে পাকিস্তানের মুসলিম লীগের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান হয়। আমরা পরবর্তীতে যাঁকে বঙ্গবন্ধু হিসেবে পাই সেই নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৪ সালের ১৫ মে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভায় মাত্র ৩৪ বছর বয়সে স্থান পান। তিনি তখন কৃষি, ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। বাঙালি ধীরে ধীরে নতুন নেতৃত্ব পেতে শুরু করে। পরবর্তী ইতিহাস এটাই সাক্ষ্য দেয়। এরপর আসে ১৯৬৬ খ্রীষ্টিয় সালের ৬ দফা ঘোষণা। সে সময় শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে ঐতিহাসিক ‘৬ দফা’ পেশ করেন। অর্থনৈতিক বৈষম্য, প্রতিরক্ষা ও শাসনতান্ত্রিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের অধিকার আদায়ের এই রূপরেখা পাকিস্তানকে রাজনৈতিকভাবে কাঁপিয়ে দিয়েছিলো এবং ধারাবাহিক আন্দোলনের গতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখতে পাওয়া যায় ওই ‘৬ দফা’ আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের গতিকে ত্বরান্বিত করেছিলো। পরের ধাপে ১৯৬৯ খ্রীষ্টিয় সালের গণঅভ্যুত্থান যা ইতিহাসে “ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান” নামে বহুল আলোচিত। তখন পাকিস্তানের ক্ষমতায় সামরিক শাসক আইয়ুব খান। কিন্তু বাঙালি নির্ভীক। এ অঞ্চলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করে পরিচালিত ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠে সমগ্র বাংলা। তখন ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে আইয়ুব খানের সামরিক সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান কারামুক্ত হন। এখানে স্মরণীয় যে এই অভ্যুত্থানেই শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিলো। এসব ইতিহাসের কথা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আসে ১৯৭০ খ্রীষ্টিয় সালের সাধারণ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে। জাতীয় পরিষদে একচ্ছত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। এই বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালি জাতি শেখ মুজিবুর রহমানকে তাদের একমাত্র আইনসম্মত প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করে এবং বলা যায় পূর্ব ঘোষিত ৬ দফার পক্ষে চূড়ান্ত রায় প্রদান করে। কিন্তু শুরু হয়ে যায় টালবাহানা। ক্ষমতায় তখন সামরিক সরকার জেনারেল ইয়াহিয়া। এখানে রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘ আলোচনা চলে। কিন্তু ইয়াহিয়া ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানান। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাখো জনতার উদ্দেশ্যে কৌশলে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ উক্তি, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের লেখায় উঠে এসেছে, তিনি ওই ঘোষণার মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে বলেন ও একইসাথে সশস্ত্র লড়াইয়ের দিকনির্দেশনা দিয়ে দেন। পশ্চিম পাকিস্তানে বসে রাজনীতি করা নেতা ও মিলিটারিও বুঝতে পারে, বঙ্গবন্ধু কৌশলে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে দিয়েছেন। এ পর্যায় থেকে সংগ্রাম আর পিছনে ফিরে না। প্রিয় পাঠক, আমার ঐতিহাসিক আলোচনার শেষ ধাপে ‘অপারেশন সার্চলাইট’! ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে নৃশংস গণহত্যা চালায়। প্রথম আক্রমণ চালায় ঢাকায় আর মানুষ মারে। ওই রাতেই বাঙালির নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানে। আমরা পরবর্তীতে যাঁকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি, সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে পাই, তিনিও তখন চট্টগ্রাম ছিলেন। সেনাবাহিনীর তৎকালীন বুদ্ধিদীপ্ত সাহসী মেজর জিয়াউর রহমান, চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর কণ্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা পৌঁছে যায় মুক্তিকামী মানুষের কাছে। একজন আর্মি অফিসারের কণ্ঠ শুনে মানুষ সাহসে ঐক্য গড়ে এবং পাকিস্তানি মিলিটারির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লড়ে। এখানে জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আরো কিছু জানা দরকার, ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালের জুলাই মাসে প্রথম নিয়মিত সামরিক ব্রিগেড ‘জেড ফোর্স’ গঠিত হলে তিনি হন জেড ফোর্সের অধিনায়ক। মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ বীরত্ব ও অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীর উত্তম’-এ ভূষিত হন। হ্যাঁ, যুদ্ধ চলে মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর সুশৃঙ্খল ও চৌকস নেতৃত্বে। মোট ১১টি সেক্টরে ভাগ হয়ে বাংলাদেশের সর্বত্র ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ চলে। এসময় প্রায় ১ কোটি মানুষ শরণার্থী হিসেবে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিক সমর্থন পায়। মিত্রবাহিনী গঠিত হয়। প্রায় বিরানব্বই হাজার সৈন্য নিয়ে পাকিস্তানি মিলিটারি আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। শেষে ১৯৭১ খ্রীষ্টিয় সালের ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ হয়ে উঠে। প্রিয় পাঠক, শুরুতে বলেছি সংক্ষিপ্ত আকারে ঐতিহাসিক আলোচনায় ইতি টানবো। এ ধরনের আলোচনা অনেক অনেক পৃষ্ঠা লিখেও শেষ করা যায় না। কারণ, একটি দেশ এমনি এমনি স্বাধীন হয়ে যায় না। এখানে নেতা লাগে, জনতা লাগে, সৈনিক লাগে, শিল্পী, সাংবাদিক, লেখক লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাগে। এরপর বহু ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া যায় একটি দেশ। আমরাও বহু কষ্টে পেয়েছি এই বাংলাদেশ। তাই আসুন ইতিহাস পড়ি এবং বাংলাদেশ হয়ে উঠার গল্প জানি। [লেখক : মোহাম্মদ আব্দুল হক, কলামিস্ট ও কথাসাহিত্যিক]

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com