স্টাফ রিপোর্টার ::
হাসনরাজার মরমি সুর আর রাধারমণের লোকসংগীতে যে জনপদের পরিচয়, সেই সুনামগঞ্জে এবার নৃত্যের ছন্দে নতুন স্বপ্নের বীজ বুনতে এসেছেন দেশবরেণ্য নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ। তাঁর লক্ষ্য শুধু নাচ শেখানো নয়, বরং নতুন প্রজন্মের নৃত্যশিল্পীদের ভেতরের প্রতিভাকে জাগিয়ে তোলা। অভিজ্ঞতার আলোয় তাঁদের পথ দেখিয়ে বাংলাদেশের নৃত্যাঙ্গনে নতুন যোগ্য ও সুন্দর শিল্পী তৈরি করতে চান তিনি।
মুনমুন আহমেদ বলেছেন, আমি তাদের মধ্যে সেই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করতে চাই, যেখানে আমাদের বাংলাদেশে নতুন নতুন যোগ্য ও সুন্দর নৃত্যশিল্পী তৈরি হবে।
শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে নৃত্যম নৃত্যালয়, সুনামগঞ্জ আয়োজিত দু’দিনব্যাপী নৃত্য কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে মুনমুন আহমেদ বলেন, সুনামগঞ্জ সংস্কৃতির শহর। হাসনরাজার শহর, রাধারমনের শহর। এখানে নাচের প্রশিক্ষণ দিতে এসে আমার খুবই ভালো লাগছে। সারা বাংলাদেশের যারা নাচের শিক্ষার্থী এবং নাচ শিখতে চায়, তাদের নাচের টেকনিক ও নাচের কিছু ভালো দিক শেখাতে চাই। তারা যদি মনোযোগী হয়, তাহলে নাচের জগতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।
নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমার যতটুকু অভিজ্ঞতা, আমি সবটুকু দিয়ে যাব। আমি সেই আশার আলো নিয়ে এসেছি। তাদের মধ্যে আমি আমার প্রতিফলন দেখতে চাই।
তাঁর এই কথায় যেন কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের চোখে নতুন স্বপ্নের আলো জ্বলে ওঠে। কারণ একজন গুণী শিল্পীর কাছে সরাসরি নৃত্যের কৌশল শেখার সুযোগ শুধু প্রশিক্ষণ নয়, এটি শিল্পচর্চার নতুন দিগন্ত উন্মোচনেরও সুযোগ।
জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও লেখক সুখেন্দু সেন, নারী ও শিশু আদালতের ¯েপশাল পিপি অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান শামীম, জেলা মহিলা দলের সাধারণ স¤পাদক অ্যাডভোকেট হাফেজা ফেরদৌস লিপন, সুনামগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি লতিফুর রহমান রাজু, সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট অলক ঘোষ চৌধুরী, অঞ্জন চৌধুরী, নৃত্য প্রশিক্ষক শামীম আশরাফ, শ্রাবন্তী পুরকায়স্থ, সিদ্ধার্থ এষ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ স¤পাদক বিমল বণিক, লোকদল শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি বিধান বণিক বাঁধন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয়। পরে অতিথিরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে দু’দিনব্যাপী নৃত্য কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
কর্মশালার আয়োজক নৃত্যম নৃত্যালয়ের কর্ণধার অহনা এষ বলেন, কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদ বাংলাদেশের অহংকার। নাচের মাধ্যমে তিনি দেশকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর মতো দেশবরেণ্য একজন নৃত্যশিল্পী সুনামগঞ্জে এসে আমাদের ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন - এটি আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি।
তিনি আরও বলেন, দু’দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা অনেক উপকৃত হবেন। মুনমুন আহমেদের মতো গুণীজনকে কাছে পেয়ে আমরা আনন্দিত।
আয়োজকেরা জানান, দু’দিনব্যাপী এই নৃত্য কর্মশালায় সুনামগঞ্জের বিভিন্ন বয়সী শতাধিক প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করছেন। নৃত্যের মৌলিক কৌশল, শৈলী ও নান্দনিকতার পাশাপাশি একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে নিজেকে কীভাবে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক সংগঠক অঞ্জন চৌধুরী বলেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জে এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের প্রত্যাশা, মুনমুন আহমেদের অভিজ্ঞতার আলোয় এই কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্য থেকেই একদিন উঠে আসবে নতুন প্রজন্মের দক্ষ নৃত্যশিল্পী - যাঁরা সুনামগঞ্জের সংস্কৃতির আলোকে ছড়িয়ে দেবেন দেশের সীমানা পেরিয়ে।