আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই বর্বরতা বন্ধ হোক

আপলোড সময় : ১২-০৯-২০২৬ ০১:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৯-২০২৬ ০১:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন
চোর সন্দেহে তিন যুবককে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, একজনের পা ভেঙে দেওয়া এবং তিনজনের চোখে চুন ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ কোনোভাবেই একটি সভ্য সমাজের স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। বৃহস্পতিবার সকালে দোয়ারাবাজারে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শুধু তিন ব্যক্তির ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নয়; এটি রাষ্ট্রের আইন, বিচারব্যবস্থা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি ভয়াবহ অবজ্ঞারও বহিঃপ্রকাশ। গরু চুরি হয়ে থাকলে কিংবা কেউ চুরির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে আটক করা, তদন্ত করা এবং আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজের হাতে আইন তুলে নিয়ে কাউকে মারধর, পঙ্গু করা কিংবা চোখ নষ্ট করার অধিকার রাখে না। অপরাধী হলেও কোনো মানুষের ওপর এমন অমানবিক নির্যাতন চালানোর বৈধতা নেই। আর নিরপরাধ হলে তো এই নির্যাতন আরও ভয়াবহ অন্যায়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিন যুবকের শরীর অনাবৃত অবস্থায় পড়ে থাকা, চোখ-মুখে চুন এবং একজনের পা রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যাওয়ার যে চিত্র সামনে এসেছে, তা নিছক নিন্দনীয় নয় - এটি আমাদের সামাজিক বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, একজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যে ‘চোর ধরা পড়লে উপযুক্ত শাস্তি’ এবং গণধোলাইয়ে মৃত্যুর ঘটনাও সালিশ বোর্ড দেখবে - এমন বক্তব্যের অভিযোগ। কোনো সালিশ, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক গোষ্ঠী রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার বিকল্প হতে পারে না। এমন মানসিকতা সমাজে বিচার নয়, বরং প্রতিশোধ ও জনতার আদালত প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে চুরি-ছিনতাইসহ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে হবে। কিন্তু অপরাধ দমনের নামে আরেকটি অপরাধ সংঘটনের সুযোগ দেওয়া যায় না। নির্যাতনকারীরা যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও মানুষ ‘চোর’ বা ‘অপরাধী’ অপবাদে জনতার হাতে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। আমরা মনে করি, দোয়ারাবাজারের ঘটনাটি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। নির্যাতনের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধের বিচার আদালতেই হবে - রাস্তার সালিশে নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই বর্বরতা বন্ধ করতেই হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com