শীতলপাটি শিল্প বাঁচাতে এখনই উদ্যোগ জরুরি

আপলোড সময় : ১০-০৯-২০২৬ ০১:১৪:২৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৯-২০২৬ ০১:১৪:২৫ অপরাহ্ন
জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের শতবর্ষী শীতলপাটি শিল্প আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ অর্থনীতির এক অনন্য নিদর্শন। আধুনিকতার প্রবল ¯্রােতের মধ্যেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গ্রামের নারীদের শ্রম, দক্ষতা ও নিষ্ঠায় এই শিল্প টিকে আছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ঐতিহ্যের এই শিল্প এখন অস্তিত্বের সংকটে। পর্যাপ্ত অর্ডার, ন্যায্য মূল্য, কাঁচামালের জোগান ও বাজারসুবিধার অভাবে অনেক কারিগর ধীরে ধীরে এ পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। শীতলপাটি শুধু একটি ব্যবহার্য সামগ্রী নয়; এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কারুশিল্পের পরিচায়ক। মুরতা বেত সংগ্রহ, শুকানো, সিদ্ধ করা, চিরে নেওয়া থেকে শুরু করে নিপুণ হাতে নকশা তোলা—সব মিলিয়ে একটি পাটি তৈরিতে কারিগরদের দীর্ঘ সময় ও শ্রম ব্যয় হয়। একটি পাটি তৈরিতে ৭ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগলেও উৎপাদন খরচ ও শ্রমের তুলনায় অনেক সময় তাঁরা কাক্সিক্ষত মূল্য পান না। ফলে লাভ কম হওয়ায় কারিগরদের আগ্রহ কমছে এবং নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আসতে চাইছে না। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, একসময় পুরুষরাও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে অনেকেই অধিক আয়ের আশায় অন্য পেশায় চলে গেছেন। ফলে শিল্পটি ক্রমেই নারীনির্ভর হয়ে পড়েছে। এটি একদিকে নারীদের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করেছে, অন্যদিকে নারীদের শ্রমের যথাযথ মূল্য না পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এনেছে। অথচ গ্রামীণ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও শীতলপাটির স্বীকৃতি রয়েছে। ২০১৭ সালে ইউনেস্কো বাংলাদেশের শীতলপাটি বুনন শিল্পকে অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২১ সালে এটি বাংলাদেশের ১৬তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পরও যদি স্থানীয় কারিগররা জীবিকার তাগিদে এই শিল্প ছেড়ে দেন, তবে সেই স্বীকৃতি আমাদের জন্য অর্থবহ হয়ে ওঠে না। এখন প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বিত কার্যক্রম। কারিগরদের আধুনিক নকশা ও উৎপাদন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, মানসম্মত কাঁচামালের নিশ্চয়তা, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং দেশ-বিদেশে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে অনলাইনভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলে সরাসরি ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা জরুরি। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমার পাশাপাশি কারিগররা পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com