নারীদের শ্রম-ঘামে টিকে আছে শতবর্ষী শীতলপাটি শিল্প

পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারাচ্ছে ঐতিহ্য

আপলোড সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৯:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৯-২০২৬ ০৯:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন
বিশেষ প্রতিনিধি :: জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামে আধুনিকতার নানা অনুষঙ্গের মধ্যেও টিকে আছে শতবর্ষী পাটি বুনন শিল্প। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গ্রামের নারীদের শ্রম ও দক্ষতায় টিকে থাকা এ শিল্প এখন নানা সংকটে পড়েছে। পর্যাপ্ত অর্ডার, ন্যায্য মূল্য ও বাজারসুবিধার অভাবে অনেক কারিগর এ পেশা থেকে সরে যাচ্ছেন। স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোরে ঘরের কাজ শেষ করে নারীরা পাটি বুননের কাজে বসেন। মুরতা বেত শুকানো, সিদ্ধ করা, চিরে বুননের উপযোগী করা থেকে শুরু করে নকশা তোলার কাজ সবই করেন তারা। একটি পাটি তৈরি করতে মান ও নকশাভেদে ৭ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। কারিগররা জানান, উৎপাদন খরচ ও শ্রমের তুলনায় পাটির দাম কম। সাধারণ পাটি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, জামদানি পাটি প্রায় ১ হাজার টাকা এবং শীতলপাটি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে নিয়মিত অর্ডার না থাকায় অনেক সময় ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। ফলে কারিগররা তুলনামূলক কম সময় ও খরচে তৈরি করা সাধারণ পাটির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। একসময় পাটি তৈরির কাজে পুরুষরাও যুক্ত থাকলেও বর্তমানে লাভ কম হওয়ায় অনেকেই পেশা বদলে অন্য কাজে চলে গেছেন। ফলে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প অনেকটাই নারীনির্ভর হয়ে পড়েছে। কদমতলীর নারী কারিগরদের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং অনলাইনভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে এ শিল্পের নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাটির ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। ইউনেস্কো ২০১৭ সালে বাংলাদেশের শীতলপাটি বুনন শিল্পকে অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। পরে ২০২১ সালে শীতলপাটি বাংলাদেশের ১৬তম জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও স্থানীয় পর্যায়ে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের সংকট কাটেনি। সুনামগঞ্জ বিসিকের উপব্যবস্থাপক এমএনএম আসিফ বলেন, শীতলপাটির বাজার সম্প্রসারণে বিসিক কাজ করছে। কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও বাজারসুবিধা তৈরির মাধ্যমে এ শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com