সুরমার তীর দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

আপলোড সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ০২:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ০২:৩১:৪৮ পূর্বাহ্ন
নদী একটি জনপদের প্রাণ। অথচ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের জয়নগর বাজারে সেই সুরমা নদীর তীরই এখন দখলদারদের কবলে। নদীর তীর ভরাট করে একের পর এক স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ শুধু উদ্বেগজনক নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বার্থের জন্যও বড় হুমকি। জয়নগর গোদারাঘাটের পশ্চিম থেকে মসজিদের পশ্চিম পর্যন্ত নদীর তীর দখল করে অর্ধশতাধিক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতল ভবনও। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো- এসব স্থাপনা নির্মাণের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়েনি। ফলে দখলদাররা দিনে দিনে নদীর জায়গা নিজেদের দখলে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আরও গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে, বড় ও প্রভাবশালী দখলদারদের স্থায়ী স্থাপনা বহাল রেখে পরিত্যক্ত সেলুঘাটের আশপাশে গড়ে ওঠা কয়েকটি অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নদীর জায়গা দখলকারী ব্যক্তি প্রভাবশালী হোন কিংবা সাধারণ - আইনের কাছে সবার অবস্থান সমান হওয়া উচিত। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু উচ্ছেদের নামে বেছে বেছে কয়েকজনকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হলে মানুষের মধ্যে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। তাই প্রথমে সুরমা নদীর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দখলদারদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করতে হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। জয়নগর বাজারের বাজার কমিটির বিরুদ্ধেও স্থায়ী দখলদারদের সহযোগিতা এবং অস্থায়ী স্থাপনাকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। নদীর জায়গা রক্ষার দায়িত্ব কোনো ব্যক্তি বা বাজার কমিটির নয়; এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ বিষয়ে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। ২০১২-২০১৩ অর্থবছরেও জয়নগর বাজারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য মামলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এত বছরেও যদি কার্যকর ব্যবস্থা না হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে- কেন প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া এত দীর্ঘায়িত হলো? দীর্ঘসূত্রতা দখলদারদেরই উৎসাহিত করে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, উচ্ছেদ হলে সব দখলদারের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা প্রশাসনের এই অবস্থানকে স্বাগত জানাই। এখন প্রয়োজন কথার বাস্তব প্রয়োগ। সুরমা নদীর তীর কারও ব্যক্তিগত স¤পত্তি নয়। দখলদার যতই প্রভাবশালী হোক, নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া যাবে না। উচ্ছেদ অভিযান হলে তা হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সবার ক্ষেত্রে সমান। নদী রক্ষায় বেছে বেছে নয় - অবৈধ সব স্থাপনার বিরুদ্ধেই নিতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com