স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ইজারাবিহীন ধোপাজান নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবৈধ বালু ও পাথর লুটপাট বন্ধে এবার কঠোর ও প্রযুক্তিভিত্তিক পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বারবার অভিযান চালিয়েও লুটপাট পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হওয়ায় নদীর কৌশলগত পয়েন্টে উচ্চ ক্ষমতাস¤পন্ন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এই বেআইনি বাণিজ্যের মাধ্যমে রাতারাতি বিশাল অর্থ-স¤পদের মালিক বনে গেছে চিহ্নিত কিছু অসাধু ব্যক্তি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন সময় সভা-সমাবেশ ও গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বালু ভর্তি বলগেট ও পঙ্গপাল নৌকাসহ বেশ কিছু যান জব্দ করে। তবে এসব অভিযানে কেবল নৌকার মাঝি ও সাধারণ শ্রমিকরা গ্রেফতার হলেও নেপথ্যের মূল হোতারা বরাবরই অধরা থেকে যায়। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন।
এর পূর্বে লুটপাট ঠেকাতে ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর সুরমা ও ধোপাজান নদীর প্রবেশমুখ ‘ঝালোখালি’ এলাকায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রবেশমুখে বড় বাল্কহেড আড়াআড়ি করে রেখে নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। তবে কোনো পদক্ষেপই স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।
অবশেষে সেই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে মনিটরিং ব্যবস্থা শতভাগ নিশ্চিত করতে নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ধোপাজান নদীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ডলুরা’ এলাকায় আধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাস¤পন্ন নাইট ভিশন সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধোপাজান নদীর বালু-পাথর চুরি ঠেকাতে পুলিশকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। কাজের স্বচ্ছতা আনা এবং ২৪ ঘণ্টা নজরদারি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। এখন থেকে থানায় বসেই সরাসরি ডিজিটাল স্ক্রিনে নদীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। আশা করছি, এই প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে অবৈধ বালু ও পাথর লুটপাট পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।