সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাঠানবাড়ী এলাকার মাঝের হাটি গ্রামের চিত্রটি শুধু একটি গ্রামের দুর্ভোগের গল্প নয়; এটি পৌর নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন ব্যবস্থার প্রতি একটি বড় প্রশ্ন। পৌর এলাকার অন্তর্ভুক্ত হয়েও প্রায় ৩০টি পরিবার যদি নিরাপদ চলাচলের রাস্তা ও সুপেয় পানির মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে- পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই জনপদটি কোথায়?
মাঝের হাটির যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালে সামান্য মাটি ফেলে একটি কাঁচা রাস্তা তৈরি করা হলেও প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ও টেকসই পরিকল্পনার অভাবে বর্ষায় সেটিই এখন দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে কাদায় পরিণত হওয়া এবং বর্ষায় কোমরপানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থী, নারী, প্রবীণ ও কর্মজীবী মানুষকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। একটি পৌর এলাকায় এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আরও উদ্বেগের বিষয়, ৩০টি পরিবারের জন্য একটি সরকারি টিউবওয়েলও নেই। নিরাপদ পানি মানুষের অধিকার। একটি পরিবারকে খাবার পানির জন্য প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হলে সেটিকে নিছক অবকাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক অধিকার - দুইয়ের সঙ্গেই সরাসরি স¤পৃক্ত।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আগামী শুকনো মৌসুমে রাস্তার কাজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এটি আশাব্যঞ্জক হলেও শুধু পরিকল্পনা যথেষ্ট
নয়; প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময়সীমা, কার্যকর বাস্তবায়ন ও কাজের মান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে টিউবওয়েল না থাকার বিষয়টিও দ্রুত সমাধান করা জরুরি। পৌরসভায় বর্তমানে টিউবওয়েল না থাকলে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা কেন করা যাবে না - সেটিও কর্তৃপক্ষকে বিবেচনায় নিতে হবে।
উন্নয়ন মানে শুধু শহরের প্রধান সড়ক, ড্রেন কিংবা দৃশ্যমান স্থাপনা নির্মাণ নয়। উন্নয়নের প্রকৃত সাফল্য তখনই, যখন পৌরসভার প্রত্যন্ত একটি ছোট জনপদের মানুষও নিরাপদ রাস্তা, পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধা পায়। করের আওতায় থাকা নাগরিকদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো এলাকা যেন অবহেলার শিকার না হয়, সেটি নিশ্চিত করা পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
মাঝের হাটির বাসিন্দাদের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিকে তাই উপেক্ষা না করে তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। বর্ষা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে এখনই টেকসই রাস্তা নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পৌরসভার সব ওয়ার্ডে নাগরিক সুবিধার বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করে যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
পৌর শহরের বাসিন্দা হয়েও কেউ যদি গ্রামীণ জনপদের মতো দুর্ভোগে জীবন কাটান, তবে সেটি শুধু ওই এলাকার ব্যর্থতা নয় - পুরো পৌর ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা। মাঝের হাটির দুর্ভোগ দ্রুত দূর করে পৌরসভার প্রতিশ্রুত নাগরিক সেবার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোই এখন সময়ের দাবি।