শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়ক

কাজ হস্তান্তরের আগেই ব্রিজের এপ্রোচে ধস ও ফাটল, অনেক জায়গায় লাগানো হয়নি ব্লক

আপলোড সময় : ২৯-০৮-২০২৬ ০৭:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৮-২০২৬ ০৭:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি :: শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়ক। এই সড়কের প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স¤পন্ন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। প্রকল্পের বড়মোহা-বসিয়াখাউরি-জয়সিদ্ধি (জেবিবি) উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের খালে শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের বসিয়াখাউরি ব্রিজ নির্মাণ করেছে মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি হস্তান্তরের আগেই এপ্রোচে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই সাথে নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনায় কাজটির প্রায় ৯৫ ভাগ কাজ স¤পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানাযায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৮ কোটি ৫২ লক্ষ ২৬ হাজার ৬০৮ টাকা ব্যয়ে শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের বসিয়াখাউরী খালে ৬০ মিটার ব্রিজের কাজ পায় বরিশালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ। কাজটি ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০ সালে শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২২ সালে শেষ করার কথা। সরেজমিনে দেখা যায়, শান্তিগঞ্জ বাজার থেকে পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের বড়মোহা-বসিয়াখাউরী-জয়সিদ্ধি (জেবিবি) উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের খালে শান্তিগঞ্জ-রজনীগঞ্জ সড়কের বসিয়াখাউরী ব্রিজ নির্মাণ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ব্রিজের উত্তর পাশের অ্যাপ্রোচে অনেক জায়গায় ধস ও গর্ত দেখা দিয়েছে। অ্যাপ্রোচের নিচে অনেক জায়গায় ব্লক এবড়োখেবড়ো অবস্থায় লাগানো হয়েছে। কিছু কিছু অংশ দেবে গেছে। দক্ষিণ পাশে জেবিবি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে হাঁসকুড়ি-করেরগাঁও সড়ক সংযোগের অংশে এখনো লাগানো হয়নি ব্লক। ব্লক না থাকায় হাওরের আফালে (ঢেউ) ভেঙে যাচ্ছে সড়ক। অনেক জায়গায় জোড়াতালি দিয়ে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেই জোড়াতালিও আবার খসে পড়ছে। বসিয়াখাউরী এলাকার বাসিন্দা সুরকম আলী, মিজান মিয়াসহ এলাকার অনেকেই জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন এই কাজের শুরু থেকে নানা অনিয়ম করে আসছেন। আমরা এলাকাবাসী অনেকবার বাধা দিয়েছি। কিন্তু তারা কারও কথা শুনেন না। এখন ব্রিজের অ্যাপ্রোচের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। তারা কয়েকদিন পরে পরে এসে সেগুলো লামছাম কাজ করে জোড়াতালি দিয়ে যায়। আবার সেগুলো ধসে পড়ে। মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মেহদি হাসান জানান, আমার প্রকল্পের কাজ ২ বছর আগেই স¤পন্ন করেছি। এলজিইডি আমার প্রকল্পের কাজ গ্রহণ করছেন না। কাজ পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলে তো ত্রুটি দেখা দিবেই। আমি সেগুলো কয়েকদিনের মধ্যেই সমাধান করে দেব। শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুল আলম জানান, এই কাজে অনেক ত্রুটি আছে। ঠিকাদারকে চিঠিসহ অনেক তাগাদা দিয়েছি। তারা আমাদের কথার কোনো কর্ণপাত করছেন না। ত্রুটির কারণে আমরা কাজ গ্রহণ করছি না। কাজ পুরোদমে শেষ করলে তা গ্রহণ করা হবে। সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার কাছে ঠিকাদার এসেছিলেন কাজ হস্তান্তরের জন্য। আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখেছি কাজে অনেক ত্রুটি আছে। সেগুলো স¤পন্ন করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বলেছি। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত টাকা নেওয়ার কোন সুযোগ নাই।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com