সুনামগঞ্জের তরুণদের জন্য বিদেশে বৈধ ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর ঘোষণা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চল, বিশেষত সুনামগঞ্জকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা এবং জেলার প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়।
সুনামগঞ্জে বিদেশে যাওয়ার প্রবল আগ্রহ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে একটি অংশ দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হচ্ছে। উচ্চ বেতনের চাকরির মিথ্যা প্রলোভনে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে অনেককে ঝুঁকিপূর্ণ পথে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে পাঠানোর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সম্প্রতি ১১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর দুর্ঘটনার ঘটনা এই বাস্তবতারই নির্মম প্রতিচ্ছবি।
আমরা মনে করি, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সরকারি উদ্যোগও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে শুধু দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বিদেশ যেতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য বৈধ, সহজলভ্য ও স্বচ্ছ অভিবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ব্যবস্থায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়া, ব্যয়, ভিসা ও চুক্তির শর্ত সম্পর্কে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম প্রয়োজন।
প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণাটি বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জের কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। তবে এসব কেন্দ্র যেন কেবল অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ভাষা শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা, পেশাগত আচরণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রকৃতপক্ষে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সুনামগঞ্জকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ পেলে তা হবে জেলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।
আমরা আশা করি, সুনামগঞ্জের তরুণদের বিদেশযাত্রা আর দালালনির্ভর ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকবে না। সরকারি তত্ত্বাবধানে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার ভিত্তিতে বৈধ অভিবাসনের পথই হবে তাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সোপান। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশেই কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো - দুই দিকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।