স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জানিগাঁও গ্রামে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির উদ্যোগে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় জানিগাঁও হাইস্কুলের সামনে অনুষ্ঠিত সভায় দেখার হাওর রক্ষায় মহাসিং নদী ও প্রয়োজনীয় খাল-বিল পুনঃখনন এবং ফিশ পাস রেখে জলকপাট (স্লুইস গেট) স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নাজিমউদ্দীন এবং পরিচালনা করেন শাহাবুদ্দিন। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি রতœাংকুর দাস জহর, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ স¤পাদক সাইফুল আলম ছদরুল এবং স’মিল শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আইয়ুবুর রহমান। এ ছাড়া স্থানীয় কৃষক নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে বারবার অকাল জলাবদ্ধতা ও ফসলহানির পেছনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অপরিকল্পিত ও ত্রুটিপূর্ণ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা দায়ী। তাদের অভিযোগ, সা¤্রাজ্যবাদী ‘ক্রুগ মিশন’ পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা পোল্ডার পদ্ধতির কারণে হাওরের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, গত বছর অকাল জলাবদ্ধতায় কৃষকদের চোখের সামনে বোরো ধান তলিয়ে গেলেও ফসল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এর আগে ২০১৭ সালের ভয়াবহ অকাল বন্যায়ও দেখার হাওরের বোরো ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অনেক কৃষক ঋণের বোঝা মেটাতে জমিজমা বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। বক্তাদের দাবি, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অনিয়মের কারণে প্রকৃত কৃষকরা ভূমিহীন হয়ে পড়ছেন এবং কৃষিজমি জোতদার ও মহাজনদের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। সভায় চলতি বোরো মৌসুম শুরুর আগেই দেখার হাওরের ভেতরের মহাসিং নদী খনন, প্রয়োজনীয় খাল-বিল পুনঃখনন এবং মাছের চলাচলের পথ (ফিশ পাস) নিশ্চিত করে জলকপাট স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, হাওরের পানি নিষ্কাশন ও কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে দেখার হাওরের কৃষক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সভা শেষে আন্দোলনকে সংগঠিত ও গতিশীল করতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ‘আন্দোলন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করা হয়। এতে নাজিমউদ্দীনকে আহ্বায়ক এবং শাহাবুদ্দিন ও আবিদুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন শামসু মিয়া ও হাফিজ উদ্দিন।