শহীদনূর আহমেদ::
পাহাড়ি ঢলে সড়ক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি। প্রবল স্রোতে সড়ক ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ছড়ার গতিপথ পরিবর্তন ও উজান থেকে নেমে আসা বালি-পাথরে যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে বন্ধ রয়েছে শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কার্যক্রম, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে নিয়োজিত হাজারো শ্রমিক। শুধু চারাগাঁও নয়, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগের কারণে উপজেলার অপর দুই শুল্ক স্টেশন বড়ছড়া ও বাগলীর আমদানি কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনুন্নত সড়কের কারণে কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মুনাফা কমছে। এতে সংকুচিত হচ্ছে ব্যবসার পরিধি এবং সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। তাহিরপুরের বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী - এই তিনটি শুল্ক স্টেশন সুনামগঞ্জের অন্যতম প্রধান আমদানি বাণিজ্যকেন্দ্র। এসব স্টেশন দিয়ে প্রতিবছর ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি করা হয়। বড়ছড়া রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনটি শুল্ক স্টেশন থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯৩.৩৭৪ লাখ টাকা। তবে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন বন্ধ থাকায় এবং সড়ক যোগাযোগের বেহাল অবস্থার কারণে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমেছে। যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলে রাজস্ব আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল রাজস্ব দিলেও শুল্ক স্টেশনগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চারাগাঁওসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য এখনো পর্যাপ্ত পাকা সড়ক নেই। ফলে বর্ষা মৌসুমে সড়কে কাদা ও বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় ট্রাক চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ঢলে এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এদিকে ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা ও চুনাপাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনে নৌপথের ওপরও নির্ভর করতে হয় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু পরিবহন কাজে ব্যবহৃত নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে নৌ চলাচল ব্যাহত হয়। পানির গভীরতা কমে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ নৌজট। ফলে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে বিন্নাকুলি-বড়ছড়া-মধ্যনগর সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ এবং সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে শুল্ক স্টেশন পর্যন্ত সংযোগ সড়কগুলোর সংস্কার জরুরি। একই সঙ্গে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার না করলে আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শ্রমিক মানুষ। ঘাট খোলা থাকলে কাজ করে খাই। তিন-চার মাস ধরে ঘাট দিয়ে কয়লা-চুনাপাথর আসছে না। পাহাড়ি ঢলে রাস্তা ভেঙে গেছে। রাস্তা মেরামত না হলে ঘাটও চালু হবে না। আমার মতো হাজার হাজার শ্রমিক বিপাকে আছেন। কয়লা ব্যবসায়ী ফেরদৌস আখঞ্জী বলেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ থাকায় চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন বন্ধ। বড়ছড়া ও বাগলীর সড়কের অবস্থাও ভালো নয়। ভারত থেকে ট্রাক নামাতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের মুনাফা থাকছে না। ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে সড়কে কিছু কাজ করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনেও কার্যকর উন্নয়ন হয়নি। সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. শামছুল হক বলেন, এই তিন শুল্ক স্টেশন থেকে বছরে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা রাজস্ব সরকারের কোষাগারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিনেও শুল্ক স্টেশনগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কাজ হয়নি। বর্তমান ব্যবসাবান্ধব সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে আমরা আশা করি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলব। বড়ছড়া রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সেলিম আহমদ বলেন, অনুন্নত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমেছে। সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হলে আমদানি বাড়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের দাবি, শুধু সাময়িক সংস্কার নয়, সীমান্তবর্তী তিন শুল্ক স্টেশনকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। দ্রুত চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের সড়ক সচল, বড়ছড়া ও বাগলীর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত এবং বিন্নাকুলি-বড়ছড়া-মধ্যনগর সড়ক পাকাকরণ করা হলে আমদানি-বাণিজ্য যেমন গতি পাবে, তেমনি কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্বও বাড়বে।
পাহাড়ি ঢলে সড়ক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি। প্রবল স্রোতে সড়ক ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ছড়ার গতিপথ পরিবর্তন ও উজান থেকে নেমে আসা বালি-পাথরে যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে বন্ধ রয়েছে শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কার্যক্রম, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে নিয়োজিত হাজারো শ্রমিক। শুধু চারাগাঁও নয়, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগের কারণে উপজেলার অপর দুই শুল্ক স্টেশন বড়ছড়া ও বাগলীর আমদানি কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনুন্নত সড়কের কারণে কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মুনাফা কমছে। এতে সংকুচিত হচ্ছে ব্যবসার পরিধি এবং সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। তাহিরপুরের বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী - এই তিনটি শুল্ক স্টেশন সুনামগঞ্জের অন্যতম প্রধান আমদানি বাণিজ্যকেন্দ্র। এসব স্টেশন দিয়ে প্রতিবছর ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি করা হয়। বড়ছড়া রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনটি শুল্ক স্টেশন থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯৩.৩৭৪ লাখ টাকা। তবে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন বন্ধ থাকায় এবং সড়ক যোগাযোগের বেহাল অবস্থার কারণে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমেছে। যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন হলে রাজস্ব আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল রাজস্ব দিলেও শুল্ক স্টেশনগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চারাগাঁওসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পণ্য পরিবহনের জন্য এখনো পর্যাপ্ত পাকা সড়ক নেই। ফলে বর্ষা মৌসুমে সড়কে কাদা ও বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় ট্রাক চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ঢলে এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এদিকে ভারত থেকে আমদানি করা কয়লা ও চুনাপাথর দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহনে নৌপথের ওপরও নির্ভর করতে হয় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু পরিবহন কাজে ব্যবহৃত নদীগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে নৌ চলাচল ব্যাহত হয়। পানির গভীরতা কমে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ নৌজট। ফলে সময় ও পরিবহন ব্যয় দুটোই বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে বিন্নাকুলি-বড়ছড়া-মধ্যনগর সড়কটি দ্রুত পাকাকরণ এবং সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে শুল্ক স্টেশন পর্যন্ত সংযোগ সড়কগুলোর সংস্কার জরুরি। একই সঙ্গে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার না করলে আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শ্রমিক মানুষ। ঘাট খোলা থাকলে কাজ করে খাই। তিন-চার মাস ধরে ঘাট দিয়ে কয়লা-চুনাপাথর আসছে না। পাহাড়ি ঢলে রাস্তা ভেঙে গেছে। রাস্তা মেরামত না হলে ঘাটও চালু হবে না। আমার মতো হাজার হাজার শ্রমিক বিপাকে আছেন। কয়লা ব্যবসায়ী ফেরদৌস আখঞ্জী বলেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ থাকায় চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন বন্ধ। বড়ছড়া ও বাগলীর সড়কের অবস্থাও ভালো নয়। ভারত থেকে ট্রাক নামাতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের মুনাফা থাকছে না। ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে সড়কে কিছু কাজ করা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিনেও কার্যকর উন্নয়ন হয়নি। সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মো. শামছুল হক বলেন, এই তিন শুল্ক স্টেশন থেকে বছরে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা রাজস্ব সরকারের কোষাগারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিনেও শুল্ক স্টেশনগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কাজ হয়নি। বর্তমান ব্যবসাবান্ধব সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে আমরা আশা করি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলব। বড়ছড়া রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সেলিম আহমদ বলেন, অনুন্নত সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশন বন্ধ রয়েছে। এতে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ কমেছে। সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হলে আমদানি বাড়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের দাবি, শুধু সাময়িক সংস্কার নয়, সীমান্তবর্তী তিন শুল্ক স্টেশনকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। দ্রুত চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের সড়ক সচল, বড়ছড়া ও বাগলীর যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত এবং বিন্নাকুলি-বড়ছড়া-মধ্যনগর সড়ক পাকাকরণ করা হলে আমদানি-বাণিজ্য যেমন গতি পাবে, তেমনি কর্মসংস্থান ও সরকারি রাজস্বও বাড়বে।