বিশ্বজিত রায়::
সড়কের দুই পাশে সারি সারি গাছ। ছায়া ঘেরা, সবুজ ঘেরা মনোরম পরিবেশ সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ (সাচনা বাজার) সড়কের। সড়ক ও জনপথের (সওজ) এ রাস্তায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে প্রায় সাড়ে চার হাজার। অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার গাছ। এসব বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে সড়কের সৌন্দর্য বিলীনের পাশাপাশি প্রকৃতি-পরিবেশের ক্ষতি করছে বন বিভাগ দাবি পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয়দের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ (সাচনা বাজার) সড়কের দুই পাশে রেইন্ট্রি, কড়ই, আকাশি, অর্জুন, মেরাসহ ফলজ, বনজ ও ঔষধি জাতের অন্তত দশ প্রজাতির গাছ আছে। প্রায় ২০ বছর আগে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের দেখাশোনা ও পরিচর্যায় ধীরে ধীরে এগুলো প্রকৃতির আধারে রূপ নিয়েছে। সুনামগঞ্জ বন বিভাগের পক্ষ থেকে পাখপাখালির আশ্রয় ও মানুষকে ছায়া দান করা এসব বৃক্ষ নিধনের কার্যক্রম চলছে বেশ জোরেশোরে।
শনিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের কোন কোন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কর্তনকৃত গাছের বড় বড় টুকরো। কিছু কিছু অংশে গাছ কাটতে দেখা যায় শ্রমিকদের। অনেক জায়গার গাছ কেটে নেওয়ায় খালি খালি লাগছে ব্যস্ততম সড়কটি। যে গাছগুলো কর্তনের বাকি আছে সেগুলোও কাটার প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে ক্ষোভ ঝারেন স্থানীয়রা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইচ্ছারচর গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গাছ কাটার ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। কইছে যেগুলা সিল মারছে এইগুলা কাইট্যা নিবো। আমরা নিজের উদ্যোগেও অনেক গাছ লাগাইছি। এইগুলাও কাইট্যা নিতাছে। আমরা প্রতিবাদ করছি মানতাছে না। গাছ প্রকৃতি ও পরিবেশের লাগি ভালা। গাছ কাটায় আমরা অখন খোলা ময়দানে পইড়া গেছি। সুনামগঞ্জের আব্দুজ জহুর সেতু থেকে জামালগঞ্জের সাচনা বাজার পর্যন্ত সড়কের দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার টুকের বাজার, গৌরারং, ইচ্ছারচর, বেড়াজালি, ইসলামগঞ্জ, আহমদাবাদ, নিয়ামতপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শালমারা, কলায়া, দুলবারচর, সংগ্রামপুর এবং জামালগঞ্জ উপজেলার শেরমস্তপুর, নজাতপুর, কুকড়াপশী, ভরতপুর পর্যন্ত সড়কে গাছ আছে অন্তত সাড়ে ৪ হাজার।
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, শতকরা ৫৫ টেকা পাইমু, এই হিসাবে বিশ বছর আগে গাছ লাগানি হইছে। যারা কাটতাছে জিগাইলে কয় তারা আড়াই’শ টাকা ফুট কিনছে। এই গাছের বাজার মূল্য আছে ৮০০ টাকা ফুট। আমরারে না জানাইয়া মাগ্না দামে গাছ বিক্রি কইরা দিছে। আমরা এর জবাব চাই।
এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের এ গাছগুলো কাটার উদ্যোগ নিয়েছিল বন বিভাগ। তখন বাকল কেটে লাল কালিতে নম্বর দেওয়া হয়েছিল প্রতিটি গাছের গায়ে। স্থানীয় লোকজনকে গণনার ধোঁকা দিয়ে সেবার গাছ বিক্রির দরপত্র আহ্বানও করা হয়েছিল। কিন্তু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রতিবাদের মুখে ভেস্তে যায় এ উদ্যোগ। শেষ পর্যন্ত উড়াল সড়ক প্রকল্পের কাজে রাস্তা প্রশস্তকরণের ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে গাছ কর্তনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে অভিযোগ বন বিভাগের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সুনামগঞ্জের সভাপতি অ্যাড. তৈয়বুর রহমান বাবুল বলেন, গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ জেলার সবচেয়ে সুন্দর সড়ক এটি। অন্য কোন রাস্তায় সুনামগঞ্জ-সাচনা বাজার সড়কের মতো এ রকম গাছপালা নেই। হাওর ভাটির জেলায় এমনিতেই বন-জঙ্গল কমে গেছে। এর মধ্যে সড়কের গাছ কেটে ফেলা মানে প্রকৃতির বড় ধরনের ক্ষতি করা। কর্তনের অবশিষ্ট গাছগুলো যেন বেঁচে থাকে এবং কর্তনকৃত জায়গায় যেন পুনঃরায় গাছ রোপণ করা হয়।
সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, এ সড়কে প্রায় ৪ হাজার ৪০০টি গাছ আছে। সামাজিক বনায়নের মেয়াদ বেশ আগে পূর্ণ হওয়ায় পরিপক্ব হয়ে অনেক গাছ মরে যাচ্ছে। যে কারণে কর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ থেকে উপকারভোগীরা লভ্যাংশ পাবে। স্থানীয়দের যারা কমিটিতে আছে তাদের নিয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন বিভাগের তালিকাভুক্ত টাঙ্গাইলের ২টি, সিলেটের ১টি ও দোয়ারাবাজারের ১টিসহ মোট ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কার্যাদেশ পায়। সদর উপজেলার অংশ ২৮ লাখ ৩৬ হাজার এবং জামালগঞ্জ অংশের গাছগুলো ৫৬ লাখ ৪৪ হাজারসহ মোট ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন,
সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী গাছ বিক্রির টাকা উপকারভোগী ৫৫ ভাগ, বন অধিদপ্তর ১০ ভাগ, ভূমির মালিক হিসেবে সওজ ২০ ভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ ৫ ভাগ পাবে। বাকি ১০ ভাগ টাকায় আবার গাছপালা রোপণ করা হবে।
বক্তব্য জানতে সুনামগঞ্জের সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।
সড়কের দুই পাশে সারি সারি গাছ। ছায়া ঘেরা, সবুজ ঘেরা মনোরম পরিবেশ সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ (সাচনা বাজার) সড়কের। সড়ক ও জনপথের (সওজ) এ রাস্তায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে প্রায় সাড়ে চার হাজার। অর্ধেকেরও কম দামে বিক্রি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার গাছ। এসব বৃক্ষ নিধনের মাধ্যমে সড়কের সৌন্দর্য বিলীনের পাশাপাশি প্রকৃতি-পরিবেশের ক্ষতি করছে বন বিভাগ দাবি পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয়দের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ (সাচনা বাজার) সড়কের দুই পাশে রেইন্ট্রি, কড়ই, আকাশি, অর্জুন, মেরাসহ ফলজ, বনজ ও ঔষধি জাতের অন্তত দশ প্রজাতির গাছ আছে। প্রায় ২০ বছর আগে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় গাছগুলো রোপণ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের দেখাশোনা ও পরিচর্যায় ধীরে ধীরে এগুলো প্রকৃতির আধারে রূপ নিয়েছে। সুনামগঞ্জ বন বিভাগের পক্ষ থেকে পাখপাখালির আশ্রয় ও মানুষকে ছায়া দান করা এসব বৃক্ষ নিধনের কার্যক্রম চলছে বেশ জোরেশোরে।
শনিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের কোন কোন জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে কর্তনকৃত গাছের বড় বড় টুকরো। কিছু কিছু অংশে গাছ কাটতে দেখা যায় শ্রমিকদের। অনেক জায়গার গাছ কেটে নেওয়ায় খালি খালি লাগছে ব্যস্ততম সড়কটি। যে গাছগুলো কর্তনের বাকি আছে সেগুলোও কাটার প্রস্তুতি চলছে জানিয়ে ক্ষোভ ঝারেন স্থানীয়রা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইচ্ছারচর গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গাছ কাটার ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। কইছে যেগুলা সিল মারছে এইগুলা কাইট্যা নিবো। আমরা নিজের উদ্যোগেও অনেক গাছ লাগাইছি। এইগুলাও কাইট্যা নিতাছে। আমরা প্রতিবাদ করছি মানতাছে না। গাছ প্রকৃতি ও পরিবেশের লাগি ভালা। গাছ কাটায় আমরা অখন খোলা ময়দানে পইড়া গেছি। সুনামগঞ্জের আব্দুজ জহুর সেতু থেকে জামালগঞ্জের সাচনা বাজার পর্যন্ত সড়কের দূরত্ব ১৯ কিলোমিটার। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার টুকের বাজার, গৌরারং, ইচ্ছারচর, বেড়াজালি, ইসলামগঞ্জ, আহমদাবাদ, নিয়ামতপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শালমারা, কলায়া, দুলবারচর, সংগ্রামপুর এবং জামালগঞ্জ উপজেলার শেরমস্তপুর, নজাতপুর, কুকড়াপশী, ভরতপুর পর্যন্ত সড়কে গাছ আছে অন্তত সাড়ে ৪ হাজার।
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, শতকরা ৫৫ টেকা পাইমু, এই হিসাবে বিশ বছর আগে গাছ লাগানি হইছে। যারা কাটতাছে জিগাইলে কয় তারা আড়াই’শ টাকা ফুট কিনছে। এই গাছের বাজার মূল্য আছে ৮০০ টাকা ফুট। আমরারে না জানাইয়া মাগ্না দামে গাছ বিক্রি কইরা দিছে। আমরা এর জবাব চাই।
এর আগে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের এ গাছগুলো কাটার উদ্যোগ নিয়েছিল বন বিভাগ। তখন বাকল কেটে লাল কালিতে নম্বর দেওয়া হয়েছিল প্রতিটি গাছের গায়ে। স্থানীয় লোকজনকে গণনার ধোঁকা দিয়ে সেবার গাছ বিক্রির দরপত্র আহ্বানও করা হয়েছিল। কিন্তু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও প্রতিবাদের মুখে ভেস্তে যায় এ উদ্যোগ। শেষ পর্যন্ত উড়াল সড়ক প্রকল্পের কাজে রাস্তা প্রশস্তকরণের ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে গাছ কর্তনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে অভিযোগ বন বিভাগের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সুনামগঞ্জের সভাপতি অ্যাড. তৈয়বুর রহমান বাবুল বলেন, গাছগাছালিতে পরিপূর্ণ জেলার সবচেয়ে সুন্দর সড়ক এটি। অন্য কোন রাস্তায় সুনামগঞ্জ-সাচনা বাজার সড়কের মতো এ রকম গাছপালা নেই। হাওর ভাটির জেলায় এমনিতেই বন-জঙ্গল কমে গেছে। এর মধ্যে সড়কের গাছ কেটে ফেলা মানে প্রকৃতির বড় ধরনের ক্ষতি করা। কর্তনের অবশিষ্ট গাছগুলো যেন বেঁচে থাকে এবং কর্তনকৃত জায়গায় যেন পুনঃরায় গাছ রোপণ করা হয়।
সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, এ সড়কে প্রায় ৪ হাজার ৪০০টি গাছ আছে। সামাজিক বনায়নের মেয়াদ বেশ আগে পূর্ণ হওয়ায় পরিপক্ব হয়ে অনেক গাছ মরে যাচ্ছে। যে কারণে কর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ থেকে উপকারভোগীরা লভ্যাংশ পাবে। স্থানীয়দের যারা কমিটিতে আছে তাদের নিয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন বিভাগের তালিকাভুক্ত টাঙ্গাইলের ২টি, সিলেটের ১টি ও দোয়ারাবাজারের ১টিসহ মোট ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কার্যাদেশ পায়। সদর উপজেলার অংশ ২৮ লাখ ৩৬ হাজার এবং জামালগঞ্জ অংশের গাছগুলো ৫৬ লাখ ৪৪ হাজারসহ মোট ৮৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। মো. রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন,
সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী গাছ বিক্রির টাকা উপকারভোগী ৫৫ ভাগ, বন অধিদপ্তর ১০ ভাগ, ভূমির মালিক হিসেবে সওজ ২০ ভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ ৫ ভাগ পাবে। বাকি ১০ ভাগ টাকায় আবার গাছপালা রোপণ করা হবে।
বক্তব্য জানতে সুনামগঞ্জের সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।