দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি ::
দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা-হকনগর সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাটি ভরাট করে মৌলা খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল প্রকাশ্যে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে ফসলি জমি তৈরি করায় গুরুত্বপূর্ণ এই জলাধারটি এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা উপেক্ষা করে খাল ভরাট অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মৌলা নদীর এসকান্দরের বাড়ির কাছ থেকে খালটির উৎপত্তি হয়ে চৌধুরীপাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে হাওরের ভেতর দিয়ে আবার মৌলা নদীতে গিয়ে মিশেছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালের পানি ব্যবহার করে সীমান্ত এলাকার হাওরজমিতে কৃষিকাজ করেন স্থানীয় কৃষকেরা। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে মাটি ফেলে খালটির প্রশস্ততা ও পানিপ্রবাহ সংকুচিত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও খালের অংশ ভরাট করে চাষযোগ্য জমিও তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, মৌলা খালটি এলাকার কৃষকদের জন্য সেচের অন্যতম প্রধান উৎস। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি ব্যবহার করে হাওরের ফসলি জমিতে চাষাবাদ করা হয়। খালটি ভরাট হয়ে গেলে কৃষিকাজে পানির সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আল আমিন বলেন, খাল ভরাট না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি প্রকাশ্যে মাটি ফেলে খাল দখল করছেন। এতে খালটির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে এবং কৃষকেরা ফসলি জমিতে প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছেন না। মৌলা খালের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। শিগগিরই পুনঃখননের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে মাটি ভরাট বন্ধ করা না গেলে খালটি পুরোপুরি অস্তিত্ব হারাতে পারে।
চৌধুরীপাড়া গ্রামের কৃষক ফালু মিয়া বলেন, এই খালের পানি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে। এখন বিভিন্ন জায়গায় মাটি ফেলে খাল ছোট করে ফেলা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জমিতে পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
কৃষক আবুল কালাম বলেন, মৌলা খাল আমাদের কৃষির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খালটি ভরাট হওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কমে গেছে। দ্রুত দখল বন্ধ করে খালটি উদ্ধার ও পুনঃখনন করা দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা বেগম বলেন, আগে খাল দিয়ে সারা বছর পানি চলাচল করত। এখন মাটি ফেলে অনেক জায়গা ভরাট করা হয়েছে। এতে শুধু কৃষিকাজ নয়, বর্ষাকালে পানি চলাচল নিয়েও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খাল দখল ও ভরাটের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, খালের অবৈধ ভরাট ও দখল দ্রুত বন্ধ করে এর সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ এবং পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় কৃষিকাজের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি অচিরেই বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।