বিচারপ্রার্থীদের জন্য সহজ, দ্রুত ও কম খরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের সাম্প্রতিক সাফল্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। জানুয়ারি-জুলাই ২০২৬ সময়ে বিকল্প বিরোধ নি®পত্তি (এডিআর) কার্যক্রমে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা দেশের বিচারব্যবস্থাকে আরও জনমুখী ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে যেখানে ২০১টি বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছিল, ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২০৮টি। একই সঙ্গে প্রি-কেস আবেদনের সংখ্যা ২৮৫ থেকে বেড়ে ২ হাজার ৮০৮টিতে উন্নীত হয়েছে। মীমাংসার মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থও কয়েক লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এসব তথ্য শুধু সংখ্যাগত অগ্রগতির চিত্র নয়; বরং এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে লিগ্যাল এইডের প্রতি বাড়তে থাকা আস্থারও প্রতিফলন।
লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর আওতায় বাধ্যতামূলক প্রাক-মামলা মধ্যস্থতা চালু হওয়া এ সাফল্যের অন্যতম কারণ। আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় হচ্ছে। একই সঙ্গে আদালতে নতুন মামলার চাপ কমানোরও সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও মামলাজটের বাস্তবতায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
সুনামগঞ্জের মতো হাওরবেষ্টিত জেলায় এডিআর কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও বেশি। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য বারবার আদালতে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। সেখানে স্থানীয় পর্যায়ে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নি®পত্তি সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনছে। জমি-জমা, পারিবারিক বিরোধ, ভরণপোষণ, স¤পত্তি ও বিভিন্ন দেওয়ানি বিষয়ে দ্রুত সমাধান সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তবে এই অগ্রগতিকে আরও টেকসই করতে সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে লিগ্যাল এইড সেবার প্রচার জোরদার করা প্রয়োজন। দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যাতে তাদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে।
লিগ্যাল এইডের এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তরিক প্রয়াস থাকলে ন্যায়বিচার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক এবং দেশের অন্যান্য জেলাও এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কার্যক্রম আরও গতিশীল করুক - এটাই প্রত্যাশা।