স্টাফ রিপোর্টার ::
বাড়ির একদম পাশেই ছিল ব্যবহারের টিউবওয়েল এবং সামান্য দূরেই পুকুর। অথচ মাত্র সাত বছরের অবুঝ শিশু জাকিয়া সুলতানাকে গোসল করানোর নাম করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের সুরমা নদীতে নিয়ে যান তার সৎমা। নদী থেকে সৎমা ফিরে এলেও ফেরেনি জাকিয়া। তিন দিনের অবর্ণনীয় উৎকণ্ঠা ও ফায়ার সার্ভিসের নিখাদ চেষ্টার পর অবশেষে সেই সুরমার জলই ফিরিয়ে দিল জাকিয়ার নিথর, ফুলিয়ে ফেঁপে ওঠা নিম্পন্দ দেহ।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কোরবাননগর ইউনিয়নের গোদারগাঁও গ্রামে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি এখন কেবল একটি গ্রামের শোক নয়, পুরো এলাকার মানুষকে স্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে চতুর্থ জাকিয়া শৈশব পার করার আগেই হারিয়েছিল আপন মাকে। মাতৃ¯েœহ বঞ্চিত এই অবুঝ শিশুটির কপালে জোটেনি সৎমায়ের একটু মমতার ছোঁয়াও। বড় বোনের অভিযোগ, মা মারা যাওয়ার পর থেকেই জাকিয়াসহ অন্য ভাই বোনদের ওপর চলতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
গত ১৭ আগস্ট দুপুরে জাকিয়াকে নিয়ে সুরমা নদীর পাড়ে যান তার সৎমা। শিশুটিকে ছাড়া একা বাড়িতে ফিরে এলে স্বজনদের প্রশ্নের মুখে তিনি সাজাতে শুরু করেন নানা অসংলগ্ন গল্প। এক কিলোমিটার দূরের খর¯্রােতা নদীতে কেন ছোট শিশুকে গোসলে নেওয়া হলো সেই প্রশ্নেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সুরমা নদীতে অভিযান চালায়। গত মঙ্গলবার নদী থেকে উদ্ধার করা হয় জাকিয়ার ভেসে ওঠা লাশ।
সন্তানকে হারানোর বুকফাটা আর্তনাদে এখন ভারী গোদারগাঁওয়ের বাতাস। নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধেই কন্যাসন্তানকে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ এনে ২০ আগস্ট (বৃহ¯পতিবার) দুপুরে মামলা দায়ের করেছেন বাবা তাজ উদ্দিন।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ (পিপিএম) জানান, শিশুটির বাবার করা মামলায় অভিযুক্ত সৎমাকে স্থানীয় মেম্বারের বাড়ি থেকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এটি নিছক কোনো দুর্ঘটনা নাকি সুপরিকল্পিত হত্যাকা-, তা উদঘাটনে কঠোর তদন্ত চালানো হচ্ছে।