ভবন আছে, চিকিৎসা নেই ডায়াবেটিস হাসপাতাল কবে চালু হবে?

আপলোড সময় : ২১-০৮-২০২৬ ০৬:৫৪:১৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৮-২০২৬ ০৬:৫৪:১৬ পূর্বাহ্ন
জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত একটি হাসপাতাল যদি নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বছরের পর বছর তালাবদ্ধ পড়ে থাকে, এর চেয়ে হতাশাজনক আর কী হতে পারে? সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস হাসপাতালের বর্তমান চিত্র সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে। ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। অথচ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও চিকিৎসা-যন্ত্রপাতির অভাবে এখনো শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবা। হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য ডায়াবেটিস চিকিৎসার একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাসপাতালটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। সুনামগঞ্জের বিপুলসংখ্যক ডায়াবেটিস রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট কিংবা ঢাকায় যেতে হয়। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থ ব্যয় হয়, অন্যদিকে দরিদ্র ও নি¤œআয়ের রোগীদের চিকিৎসা নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় স্থানীয়ভাবে একটি ৫০ শয্যার ডায়াবেটিস হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতায় সেই উদ্যোগের সুফল এখনো পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, হাসপাতাল ভবন নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সেটি এখন কার্যত অব্যবহৃত। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকসেবীদের আনাগোনার অভিযোগও রয়েছে। অর্থাৎ যে স্থাপনা মানুষের জীবন রক্ষার কাজে ব্যবহৃত হওয়ার কথা, সেটিই এখন অযতœ ও অবহেলার শিকার। প্রশ্ন হলো- একটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়ার সময় কি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও জনবল নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি? ভবন নির্মাণ শেষ হওয়ার পরও যদি সরঞ্জাম হস্তান্তর না হয়, তাহলে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকা জনগণের করের টাকা। সেই অর্থে নির্মিত স্থাপনা অব্যবহৃত পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ স¤পাদকও জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন, কিন্তু এখনো সেগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। তাহলে আর কতদিন অপেক্ষা? ক্রয় করা সরঞ্জাম যদি সত্যিই প্রস্তুত থাকে, তবে তা দ্রুত বুঝিয়ে দিয়ে হাসপাতাল চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। আমরা মনে করি, বিষয়টি আর ফাইল চালাচালির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও ডায়াবেটিস সমিতির মধ্যে দ্রুত সমন্বয় করে হাসপাতালের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে হবে। ভবনের ত্রুটি থাকলে তা মেরামত করতে হবে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র হস্তান্তর করতে হবে এবং চিকিৎসক-নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে হবে। সুনামগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার এই হাসপাতাল যেন আরেকটি অব্যবহৃত সরকারি স্থাপনায় পরিণত না হয়। জনগণের অর্থে নির্মিত হাসপাতাল জনগণের চিকিৎসায় যত দ্রুত সম্ভব খুলে দেওয়া হোক - এটাই এখন সময়ের দাবি।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com