সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের দাবি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে হাওরাঞ্চলের মানুষের পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। সম্প্রতি সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে রেলপথ মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান আবারও বিষয়টিকে সামনে এনেছে। আমরা মনে করি, এ দাবি কেবল একটি যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের দাবি নয়; এটি হাওরাঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
সুনামগঞ্জ দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় হাওর জেলা। ধান, মাছসহ নানা কৃষিপণ্য উৎপাদনে এ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু উন্নত ও সাশ্রয়ী পরিবহনব্যবস্থার অভাবে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে অনেক সময় বঞ্চিত হন। রেলপথ চালু হলে স্বল্প খরচে দ্রুত পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।
একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের পর্যটন সম্ভাবনাও বিপুল। টাঙ্গুয়ার হাওর, টেকেরঘাট, শিমুল বাগান, বারিক টিলাসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক আসেন। নিরাপদ, সহজ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ চালু হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
উল্লেখ্য, সিলেট-ছাতক রেললাইন দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যমান অবকাঠামোকে কার্যকর করে প্রয়োজনীয় সম্প্রসারণের মাধ্যমে সুনামগঞ্জকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তবে এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অবশ্যই সমীক্ষা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, পরিবেশগত প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প গ্রহণের পর যেন তা বছরের পর বছর কাগজে-কলমে আটকে না থাকে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দাবিটির যৌক্তিকতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থেই এই রেলপথ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।