২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে আবারও এক নারী কর্মীকে মারধরের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। হাসপাতালের মতো একটি সেবাপ্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট কিংবা অন্য কোনো কর্মী যদি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বখাটের হামলার শিকার হন, তাহলে সেটি শুধু একজন কর্মীর ওপর হামলা নয় - এটি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার ওপর আঘাত।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক্স-রে বিভাগে সিরিয়াল ভেঙে আগে পরীক্ষা করাতে না দেওয়ায় এক নারী টেকনোলজিস্টকে মারধর করেছেন স্থানীয় এক যুবক। সহকর্মীরা প্রতিবাদ করলে তিনি ছুরি বের করে পালিয়ে যান। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, একই ব্যক্তি এর আগেও হাসপাতালে ঢুকে কর্মীদের মারধর করেছেন এবং মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন। এর আগে একজন নার্সকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। প্রশ্ন হলো, বারবার অপরাধ করার পরও কেন তিনি হাসপাতাল চত্বরে অবাধে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন?
হাসপাতাল কোনো ব্যক্তির প্রভাব-প্রতিপত্তি দেখানোর জায়গা নয়। এখানে রোগী ও স্বজনেরা যেমন সেবা নিতে আসেন, তেমনি চিকিৎসক-কর্মীরা নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালনের অধিকার রাখেন। একজন কর্মীকে প্রকাশ্যে মারধরের পরও যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হবে এবং অন্য কর্মীদের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হবে।
হাসপাতালে দালালচক্র, বখাটেপনা, তদবির ও বিশৃঙ্খলা বন্ধে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হতে হবে। হাসপাতালের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, সিসিটিভি কার্যকর রাখা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা মামলা যেন কোনো আপস বা প্রভাবের কারণে থেমে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা মনে করি, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আজ একজন নারী কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন, কাল আরও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঘটনার পুনরাবৃত্তি নয়, এবার দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই সময়ের দাবি। হাসপাতাল হবে চিকিৎসা ও মানবসেবার নিরাপদ আশ্রয় - বখাটেদের দাপটের ক্ষেত্র নয়।