স্টাফ রিপোর্টার ::
তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পাঠানপাড়া-মিয়ারচর খেয়াঘাটে মালামাল পারাপারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতি, ভুক্তভোগী জনগণ ও শ্রমিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাজারের ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার, সাধারণ স¤পাদক হারুন অর রশিদ, কোষাধ্যক্ষ মাওলানা মোখলেসুর রহমান, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ও আমির শাহ, উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হেলু মিয়া এবং ব্যবসায়ী জুবায়ের আহমদ, সাজ্জাদ হোসেন ও শ্রমিক রহম আলী।
বক্তারা বলেন, মিয়ারচর খেয়াঘাটে একই সঙ্গে জেলা পরিষদ ও দেবোত্তর স্টেটের নামে দুই পক্ষ টোল আদায় করছে। এতে বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ীরা মালামাল পরিবহনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন। পাশাপাশি সাধারণ যাত্রী ও শ্রমিকদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে এ সমস্যা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বক্তারা দ্রুত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করে ঘাটের টোল আদায়ের বিষয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
মানববন্ধন শেষে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা মিয়ারচর খেয়াঘাটে গিয়ে টোল আদায়কারী দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সাবেক চেয়ারম্যান তারা মিয়া উপস্থিত হয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সাময়িকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেন। পরে দুই পক্ষই আপাতত টোল আদায়ের দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষের কাছে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়।
আলোচনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে ঘাটের টোল আদায়ের বৈধতা ও দায়িত্বের বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এ সময় আদায় করা টাকা জমা থাকবে এবং প্রশাসন যাকে বৈধভাবে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেবে, তার কাছেই ওই অর্থ হস্তান্তর করা হবে। এ সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত ঘাটের বিরোধের সাময়িক সমাধান হয়েছে।