কমছে না হামের প্রকোপ, চাপ বাড়ছে হাসপাতালে

আপলোড সময় : ০৫-০৮-২০২৬ ১০:৪৩:২৬ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৫-০৮-২০২৬ ১০:৪৩:২৬ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: হাম উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের চাপে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় বারান্দা ও মেঝেতে চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে শিশুদের। একই সঙ্গে স্যালাইন, ক্যানুলা, ইনজেকশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। নেই পৃথক আইসোলেশন ব্যবস্থাও। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাইয়ে হামে আক্রান্ত ৪৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার পর্যন্ত নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৯১ জন; এর মধ্যে ৮১ জনই শিশু আর ১০ জন কিশোর। আক্রান্তদের বড় অংশই দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জের হাওরাঞ্চলের বাসিন্দা। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ১১০ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৬ জন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫১ জন, সিলেটে ৪০ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে হাম উপসর্গে আক্রান্ত তিন বছরের শিশুকন্যার পাশে বসে ক্ষোভ আর চোখে জল নিয়ে বাবা গোলাম আহমেদ বলেন, গ্রামে টিকার কোনো খবর পাইনি। বাচ্চার গায়ে লাল দানা আর জ্বর দেখে ছুটছি সদরে। সিট পাই নাই, বারান্দায় চাদর বিছায়া রাখছি। ডাক্তার দিনে এক নজর আইয়া দেখে আর নার্সদের ডেকে ডেকে আনতে হয়। আর ওষুধ? স্যালাইন, ক্যানুলা থেকে শুরু করে সব বাহিরের দোকান থাইকা কিনে আনা লাগে। একই করুণ সুর শোনা গেল ১০ বছরের হেপি আক্তারের মা লিপি বেগমের কণ্ঠে। তিনি বলে, সোমবারে ভর্তি বাচ্চারে ভর্তি করছি, কিন্তু হাসপাতাল থেকে পাইছি শুধু একটু গ্যাস (নেবুলাইজার)। ইনজেকশন, ক্যানুলা, স্যালাইন সব দোকান থেকে কেনা। বারান্দার ঠা-া মেঝেতে রোগী নিয়ে পড়ে আছি। এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. আহম্মদ হোসেন বলেন, সারাদেশে হামের প্রকোপ কমলেও আমাদের এখানে কমছে না। তবে আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছি এবং দ্রুতই এটি নিয়ন্ত্রণে আসবে। বিনামূল্যে ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে সব ধরনের ওষুধের পর্যাপ্ত সরকারি সরবরাহ আছে। যারা ওষুধ না পাওয়ার কথা বলছেন, তারা হয়তো ভুল বলছেন। এমনটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রোগ ছড়ানোর পেছনে সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করে তিনি আরও যোগ করেন, হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে। কিন্তু স্বজনরা হাসপাতালে একজন হামের রোগীকে দেখতে আসার সময় সাথে অন্য ছোট বাচ্চাদের নিয়ে আসছেন। ফলে হাসপাতাল প্রাঙ্গণেই এই ভাইরাস ছড়াচ্ছে এবং নতুন রোগী তৈরি হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com