স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জে হামের প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে জেলার আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা দুজনই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ নিয়ে চলতি বছরে সুনামগঞ্জে হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে, যা সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ।
স্বাস্থ্য বিভাগের সোমবার (৩ আগস্ট) প্রকাশিত দৈনিক পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন জগন্নাথপুর উপজেলার ছয় মাস পাঁচ দিন বয়সী এবং অন্যজন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ছয় মাস বয়সী। তারা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৭০৬ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৪৩ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এছাড়া সিলেটে ২৩৫ জন, হবিগঞ্জে ৬৭ জন এবং মৌলভীবাজারে ৬১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে, হামের সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৯৩ জন ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে বিভাগজুড়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৫৪ জন রোগী। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৬ জন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০২ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৯ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ১১০ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৬ জন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫১ জন, সিলেটে ৪০ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা শিশুদের হাম প্রতিরোধে নির্ধারিত সময়ে টিকাদান স¤পন্ন করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।