মইয়ার হাওরে নৌকাডুবিতে নিহত ২, নিখোঁজ ২, ভবানীপুরে শোকের মাতম

আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০১:০০:০২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৬ ০১:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
শহীদনূর আহমেদ, জগন্নাথপুর থেকে ফিরে ::
“আমি কিতা কইতাম, আমার আর কিচ্ছু নাই। স্বামী ছাড়া আমার আর সম্বল রইলোনা গো। দুই অবুঝ বাচ্চা লইয়া কেমন চলতাম। আমি কেমনে বাঁচতাম গো।” - এভাবেই বিলাপ করছিলেন জগন্নাথপুর পৌরসভার ভবানীপুর গ্রামের গৃহবধূ চম্পা দেবনাথ। শুক্রবার ভোর রাতে নৌকাডুবিতে গ্রামের ৪ ব্যক্তির সাথে নিখোঁজ হন স্বামী হেমেন্দ্র দেবনাথ। দিনব্যাপী সন্ধান করে নিখোঁজদের মধ্যে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার হলেও নিখোঁজ রয়েছেন চ¤পার স্বামী হেমেন্দ্রসহ দুই জন। হেমেন্দ্র দেবনাথ পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। তাঁর ঘরে দুই বছরের এক ছেলে ও ৫ বছর বয়সী এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। স্বামীর অনিশ্চিত পরিণতিতে অসহায় চম্পা ও তাঁর সন্তানরা। জানাগেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী বালুচর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে কীর্তন অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিলেন ভবানীপুর গ্রামের ৯-১০জন বাসিন্দা। ভোর রাতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে ডিঙি নৌকাযোগে মইয়ার হাওর হয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন তারা। এসময় দমকা বাতাসের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায় হাওরে। নৌকায় থাকা বেশিরভাগ যাত্রী সাঁতার কেটে পারে চলে আসলেও ৪ জন পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন গ্রামের অরুণ দেবনাথ (৪৫), অধীর দেবনাথ (৫০), হেমেন্দ্র দেবনাথ (৫৫) ও সতীন্দ্র দেবনাথ (৫২)। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অরুণ দেবনাথ ও সতীন্দ্র দেবনাথের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাওরের বিশালতা ও দুর্ঘটনার স্থান শনাক্ত করতে না পারায় দিনব্যাপী উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েও বাকি দু’জনের সন্ধান পায়নি উদ্ধারকারী দল। নৌকাডুবিতে বেঁচে ফেরা গ্রামের নিশি দেবনাথ বলেন, কীর্তন দেখে রাত ৩টার দিকে আমিসহ গ্রামের ৯ জন বাড়ি ফিরছিলাম। মাঝ হাওরে আসার পর হঠাৎ দমকা হাওয়ায় নৌকা ডুবে যায়। আমি নৌকার পেছনে থাকায় আগেই নদীতে পড়ে গিয়েছিলাম। হাওরে কোনো ঠাঁই নাই। অনেক সময় সাঁতার কাটছি। শরীর ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। আমি বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। শ্বাস নিতে পারছিলাম না। একটা মাছ ধরার নৌকা এসে আমিসহ ৫জনকে উদ্ধার করে। বাকি ৪ জন পানিতে ডুবে যায়। নিহতদের স্বজন জয়িতা দেবনাথ বলেন, এমন ঘটনা আমাদের গ্রামে আর হয়নি। আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। যাঁরা মারাগেছে, যাঁরা নিখোঁজ রয়েছে সবাই দিনমজুর। পরিবারগুলো অসহায় হয়ে গেছে। সরকার পাশে না দাঁড়ালে তাদের ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অধিনায়ক সোহেল রানা বলেন, শনিবার সকালে আমাদের কাছে খবর আসে জগন্নাথপুরের মইয়ার হাওরে নৌকাডুবিতে চার জন নিখোঁজ রয়েছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে সুনামগঞ্জের ডুবুরিদল ও পরে সিলেট থেকে আরেকটি ডুবুরিদল এসে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। দিনব্যাপী উদ্ধার কাজে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাত হওয়ায় প্রথম দিনের উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। রবিবারও উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা হবে। এদিকে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার কথা জানিয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, নৌকাডুবির বিষয়টি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ অবগত। সারাদিন ঘটনাস্থলে ছিলাম। প্রতিটি পরিবারকে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রাথমিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এমপি মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সরকারের সকল সহযোগিতা পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে প্রদান করা হবে।

সম্পাদকীয় :

  • সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি : মো. জিয়াউল হক
  • সম্পাদক ও প্রকাশক : বিজন সেন রায়
  • বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : মোক্তারপাড়া রোড, সুনামগঞ্জ-৩০০০।

অফিস :

  • ই-মেইল : [email protected]
  • ওয়েবসাইট : www.sunamkantha.com