জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশাও পূরণ করতে হবে
দুই দশক পর দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের পরিকল্পনার খবর নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা, গ্যাসের ঘাটতি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও উন্নয়ন সময়োপযোগী উদ্যোগ। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে তা জাতীয় অর্থনীতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে টেংরাটিলার ইতিহাস শুধু সম্ভাবনার নয়, বেদনারও। ২০০৫ সালের ভয়াবহ ব্লো-আউট দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম বড় দুর্ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে। সেই বিস্ফোরণে পরিবেশ, কৃষিজমি, বনাঞ্চল ও স্থানীয় মানুষের জীবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আজও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ন্যায্য ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই নতুন উদ্যোগ গ্রহণের আগে অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়াই হবে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের ক্ষতিপূরণের রায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাবেন এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা, পরিবেশগত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং দক্ষ তদারকি ছাড়া এমন প্রকল্প কোনোভাবেই এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে উন্নয়নের অংশীদার করতে হবে। কর্মসংস্থানে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি এবং স্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালনা করলে টেংরাটিলা শুধু একটি গ্যাসক্ষেত্র নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের একটি সফল উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাসসম্পদের যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য। কিন্তু উন্নয়নের নামে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। টেংরাটিলার নতুন অধ্যায় শুরু হোক নিরাপত্তা, জবাবদিহি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে। তাহলেই এই উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাও পূরণ করতে সক্ষম হবে।